আগুনের পরশ মণি ছোঁয়ায় প্রাণে

0

আজ রবীন্দ্র জয়ন্তী। স্কুল কলেজ পাড়ার মোড়ে মোড়ে আজ রবীন্দ্রনাথের জন্মদিবস পালিত হচ্ছে। “আমরা নূতন” ক্লাব ও তার ব্যতীত নয়। অর্ক ও এই ক্লাবের অন্যতম সদস্য। বিকেলে ওদের ক্লাবে বড় করে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন হবে, সব ঠিক আছে, ঐ নিয়েই ভজা দার চায়ের দোকানে সবাই আলোচনা করছিল।

হঠাৎ অর্ক শুনতে পেল একটা গান।

-“যদি তোর ডাক শুনে কউ না আসে তবে একলা চল রে”

ভাল করে শুনে লক্ষ করল গানটা কে গাইছে। দেখল গানটা ভজা দার দোকানে  নতুন কাজের ছেলেটা চায়ের গ্লাস ধুতে ধুতে গাইছে।

-কি চমৎকার গাইলি তুই কি নাম তোর।

গ্লাস ধুতে ধুতে হঠাৎ বন্ধকরে। উঠে বলল।

-আমি রতন দাদা

-বাহ বেশ। যে গান গাইলি জানিস কার গান এটা।

– হ্যাঁ, রবি ঠাকুরের গান।

– বাহ। আজ কি দিন জানিস।

– হ্যাঁ, তো। আজ রবি ঠাকুরের জম্মদিন তো।

-বাহ। তুই এত কিছু জানিস।

– হ্যাঁ, দাদা। আগে যখন স্কুলে পড়তাম। তখন “রবিন্দো জয়ন্তী” পালন হতো আমি ওখানে এই গান শুনেছি।

– বাহ রতন। ভালো তো রে। এখন পড়িস না?

– না, দাদা, বাবা মরে গেল। মা বাড়ি কাজ করে আর আমি চায়ের দোকানে কাজ করি।

– ওহ্!

হঠাৎ ভজা দা চিৎকার করে উঠল।

– কিরে, রতন সারাদিন গল্প করতে তোকে টাকা দি নাকি হারামজাদা।

– করছি কাকু। আচ্ছা দাদা পরে কথা বলব।

রতনের সেই মুখটা দেখে মনটা কেমন যেন একটা ভারী হয়ে গেল। আমি ভজা দা কে জিজ্ঞেস করলাম।

– ভজা দা ছেলেটা কোথায় থাকে গো? কি দারুন গানের গলা।

-দূর ছাড়ো তো অর্ক ভায়া। গরীবের গান! ওতো ঐ “নবোদয় বস্তি” তে থাকে।

– ঠিকানাটা দেবে এখনি দরকার আছে।

– কেন? আচ্ছা নাও।

ঠিকানাটা নিয়ে আমি চলে যাই। বিকেলে অনুষ্ঠান অনেক আয়োজন তাই চলে গেলাম। সন্ধে ছটায় অনুষ্ঠান। অর্ক বিকেল ৪টে তে “নবোদয় বস্তি”-তে রতনের বাড়িতে যায়। অর্ক কে রতন দেখে বলে-

– দাদা, তুমি এখানে?

– হুম, চল ready হয়ে নে।

– কেন গো?

– চল না, একটা জায়গায় নিয়ে যাব। তোর মা কোথায়? মাকেও বল ready হতে।

– মা তো ঘরে। চলো আমার বাড়ি।

রতন অর্কে নিয়ে যায় তার বাড়ি। অর্ক রতনের মা কে দেখে নমস্কার জানিয়ে বলে,

– কাকিমা আমি অর্ক “আমরা নতুন” ক্লাবের সদস্য। আজ আমাদের ক্লাবে রবীন্দ্র জয়ন্তীর উৎসব ওখানে রতন কে গান গাওয়াব। আপনিও ready হয়ে নিন। আমি কথা বলে রেখেছি। চল রতন ready হ।

রতন আর রতনের মা কে নিয়ে অনুষ্ঠান স্থানে অর্ক আসে। আর রতন কে বলে আজ তুই অনুষ্ঠানের প্রথম গাইবি রে। যে গান গুলো তুই স্কুলে গেয়েছিস সেই গান গুলোই কেমন যেটা তোর মন চায়। আজ তুই আমাদের বাঙালির প্রাণের ঠাকুর কে তোর শ্রদ্ধাঞ্জলি দে।

রতন অর্ক কে আর ওর মাকে একটা প্রনাম করে স্টেজে ওঠে। আর গান ধরে।

– “আগুনের পরশ মণি ছোয়াঁও প্রাণে / এ জীবন পূণ্য করো”

বি.দ্র:  রবীন্দ্রনাথ বাঙালির প্রাণের ঠাকুর। আমদের হৃদয়কে উদার বৈচিত্র্যময় করে তোলেন। তাঁর কাছে সবাই প্রাণাধিক প্রিয়।

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

0

Leave a Comment

error: Content is protected !!