আমার মা

3+

সরলা সকালে বেরিয়ে যায়। তিন বাড়িতে বাসন মাজে সকালে। আর সন্ধে দুই বাড়ি রান্না করে। রাতে ঠোঙা বানায়। বাসন্তীর এবারে সেভেন হল।

মা কে ও সাহায্য করে মাঝে মাঝে ঠোঙা বানানোর কাজে। সেদিন, সকালে ও স্কুলে যাওয়ার সময় দুই বন্ধু বলে.

– জানিস তো কাল কি ডে আছে?

– কি ডে রে?

– কাল তো মাদারস্ ডে রে। কাল স্কুলে তো অনুষ্ঠান আছে। তুই জানিস না আজই স্কুলে দিদি বলবে দেখিস।

বাসন্তী মনে মনে ভাবল, কাল মাতৃ দিবস।

স্কুলে অনিতা দিদি সকল ছাত্রীদের বললেন,

– কাল মাতৃদিবস। স্কুলে অনুষ্ঠান হবে। সবাই যোগদান করো আর অবশ্যই মা কে নিয়ে আসবে। আমি ভাগ করে দিচ্ছি কে কি করবে। নমিতা তুমি গাইবে। আশা তুমি নেচো। এই যে বাসন্তী,

– হ্যাঁ দিদি বলুন।

– তুমি কাল অবশ্যই আসবে আর মা কে আনবে।

– ঠিক আছে দিদি।

বাড়ি যাওয়ার পথেও মনে ভাবে মাকে কিভাবে স্কুলে আনবে। রাতের বেলা মার জন্য স্পীচ তৈরী করে। কাল মাকে শোনাবেই।

এভাবেই পরেরদিন স্কুলে যায় শুধু যাওয়ার আগে মা কে বলে,

– মা, আজ তুমি আমার স্কুলে আসবে গো।

– কেন রে কিছু করেছিস নাকি।

– না বলবো না। তুমি আসবে ব্যস।

এই বলে বাসন্তী স্কুলে যায়।

এদিকে সরলা এক বাড়ির ছুটি নিয়ে বাসন্তীর স্কুলে যায় ভয়ে ভয়ে। বাসন্তী অধীর অপেক্ষা করছে মা কখন আসবে এভাবে ওর স্পীচ বলার পালা আসে স্টেজে উঠে দেখে সরলা একদম শেষে বসে আছে। বাসন্তী সকল কে নমস্কার করে বলতে শুরু করে।

“আমার মা ৫ বাড়িতে কাজ করে। কোথাও বাসনমাজা, কোথাও রান্নার কাজ করে। আমি রোজ দেখি সকালে আমার জন্য রান্না করে মা চলে যায় নিজের জন্য কিছু রাখে না। আমার স্কুলে বন্ধুরা অনেক ভালো ভালো খাবার টিফিনে আনে। একদিন মা কে বলেছিলাম, সেই থেকে মা আমাকে রোজ ১০টাকা দেয় আমিও যাতে ভালো খাবার খেতে পারি কিনে। রাতে মা ঘুমোয় না। ঠোঙা বানায় বসে। আমি যদি help করতে যাই তাহলে আমাকে বকা দেয়। এসব আমার জন্য নয় বলে। আমার সামান্য কাশি হলেই মা অস্হির হয়ে পড়ে। পুজোতে আমাকে নতুন জামা কিনে দেয়। নিজের সেই পুরোনো শাড়ি গুলো পড়ে। মা রা বোধহয় এমনি হয়।

আমার মা আমার প্রথম বন্ধু, প্রথম জীবন শিক্ষক, আজ পিছনে বসে আমার মা, আমার ভালোবাসা”।

পুরো হল ঘর হাততালির গর্জন হতে থাকে। আর সরলার চোখে আনন্দের বর্ষণ হতে থাকে।

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

3+

Leave a Comment

error: Content is protected !!