ছোটদের ছোটদের মত থাকতে দাও:

18+

বয়‍‍ঃসন্ধির সময়টাকে অদ্ভুত এক সাঁকো বলা যেতে পারে। যা শৈশব ও  যৌবনের মাঝ স্তর।
এই সময় খুব চেনা এক শিশু বদলে যায়। বড্ড অস্থির দেখায়। বুঝতে পারা যায় না বা বোঝে না এই বদল কীসের মনের না শরীরের। এই বদলে যাওয়া সময়ের নাম‌ই বয়ঃসন্ধি।
বয়ঃসন্ধি সময় সবথেকে বড় অনুভূতি হল নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা। এবং সেটা প্রায় সকলের সঙ্গেই মা বাবা ভাই অথবা বন্ধু যাই হোক। তবে ‌সর্বপ্রথম বলা যায় মা , বাবার সঙ্গে। কারন তারা বেশ কিছুটা জোর দেন পড়াশোনার ক্ষেত্রে।

এছাড়াও আছে বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা। কোন বন্ধু কতটা ভালো সেই তুলনার হিসেব কিন্তু হীনমন্যতার সৃষ্টি করে, কারন তার নিজের কিছুটা মানসিক চাপ থাকে খারাপ ফলাফলের জন্য। মা বাবা বন্ধু ছাড়াও আরও একটি বিষয় পাড়া প্রতিবেশী। প্রায়শই এমন কথা শোনা যায় , বাচ্চার খারাপ রেজাল্ট হলে পাড়ায় মুখ দেখানো যাবে না।

বয়ঃসন্ধির সময়টা এমন‌ই একটা সময় যখন নিজেকে ছোটদের থেকেও আলেদা মনে হবে আবার বড়দের পাশেও বেমানান বলা যেতে পারে বয়ঃসন্ধির সময়টা এক অস্তিত্ব স্থাপন করবার লড়াই। এই বিষয়টা তলিয়ে ভাবতে হবে বড়দের, মজার কথা হল উপায়‌ও কিন্তু অভিভাবকদের হাতেই। তাদের একটু বেশি সময় দিতে হবে বাচ্চার সঙ্গে। তাকে অন্তত এইটুকু আশ্বাস দিতে হবে আমরা আছি তোমার সঙ্গে।

একজন শিশু বা কিশোর সমাজের অঙ্গ। যেদিকে ভিড় সেদিকেই তার চোখ ও মন য়ায় ।বলা যেতে পারে তার মস্তিষ্ক পরিনত হতে তিনটি বিষয়ের সঠিক সাহচর্য অপরিহার্য —
১.মা ও বাবা
২.বন্ধু‌
৩.সমাজ
বাবা মা যেমন বন্ধু হবেন তেমন আবার আচারন বিধির ওপরেও নজর রাখাটা জরুরি ।এ কথা প্রমাণিত যে, সকল মানুষের মনেই অপরাধ প্রবণতার ঝোঁক থাকে । কিন্তু বয়ঃসন্ধির সময়ে লক্ষ না রাখলে বা সময়মত তাকে না বোঝালে এ প্রবনতা খারাপের দিক গড়াতে পারে। কাদের সাথে মিশছে লক্ষ্য রাখতে হবে তা গোপনে । সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যেতে হতে পারে। ডাক্তার সঠিক কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিশ্বাস বা মন শান্ত রাখবার কিছু ব্যায়াম এবং সঠিক আচারন বিধির সহজেই শিখিয়ে দেবেন ।তাতে বেশ খানিকটা ভালো ফল পাওয়া যাবে ।

আমারা সকলের জানি, ডিজিট্যাল দুনিয়া আসবার পর থেকেই ছোটদের খেলাধুলা প্রায় শিকেয় উঠেছে। একটু খোলা মাঠ, সবুজ ঘাসের হুটোপাটি করাটা যে  স্বাস্থ্যকর তার সর্বজনবিদিত। কিন্তু একথাও সত্যি খোলা মাঠ সে অর্থে এখন খুব কম। সুতরাং সম্ভব হলে বাচ্চাদের পচ্ছন্দমত খেলার সঙ্গে যুক্ত করবার দায়িত্বটাও কিন্তু অভিভাবকের। আরও একটা বিষয়ে ভাবতে হবে, পড়াশোনার পথটা কিন্তু বেশ দীর্ঘ। ম্যারাথন রেসের মত । সুতরাং কেজি থেকে ক্লাস এইট অবধি চাপ না দেওয়াই ভালো । ছোট বয়স থেকেই যেন পড়াশোনায় ওরা ক্লান্ত না হয়ে পড়ে ।

অভিভাবকদের অনুভব করতে হবে বয়ঃসন্ধির সময়টা বড্ড কষ্টের। তাদের প্রতি সঠিকভাবে খেয়াল রাখাটা অত্যন্ত জরুরি । কিন্তু ব্যস্ত জীবনে সেটা সবসময় সম্ভব নয়। বরং বেশ কিছু অভিভাবকেরা জোট তৈরি করে এ কাজ করতে পারেন।

এই সময়টা ভবিষ্যৎ গড়বার। অভিভাবকেরা খেয়াল রাখবেন ইচ্ছের যেন বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। মানে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পড়বার সুযোগ না হলে জীবন থেমে যাবে এমনটি কিন্তু নয় । যার যেদিকে ঝোঁক তাকে সেদিকেই যেতে দেওয়াটাও ভালো । পারলে অভিভাবকেরাও কিছু কিছু বিষয় বাড়িতেই পড়াতে পারেন, তাতে সময় ও অর্থ দুইয়ের‍ই সাশ্রয় হবে ।

বয়ঃসন্ধির সময়টা একটু পাশে থেকে ছোটদের ছোটোর মতো করেই থাকতে দেওয়াটাই শ্রেয়। এর ফলে ওরা সৎ ভাবে নিজেদের কাজটা মন দিয়ে করতে পারবে আগামী দিনে দেশ ও দশের জন্য।।

কলমে : Aparajita Bhandary.

18+

Leave a Comment

error: Content is protected !!