জামাই ও ছেলে

0

প্রথম পর্ব

পিউ : হ্যালো মা কেমন আছো?

মা : ভালো রে সোনা তুই কেমন আছিস বল। বাড়ির সবাই ভালো আছে তো? অতনু কেমন আছে রে?

পিউ : সবাই ভালো আছে মা। তোমার শরীর কেমন আছে? প্রেসারের ঔষধ টা ঠিক মত নিচ্ছো তো?

মা : হ্যাঁ রে হ্যাঁ। শোননা। এই জামাইষষ্ঠী তে আসিস কিন্তু। কত দিন দেখিনি এবারে এসে কদিন থাকবি? আজ আছি কাল নেই অবস্থা আমার।

পিউ : উফ! মা আবার শুরু করলে! ফোন কেটে দেব কিন্তু বাজে কথা বললে।

মা : আচ্ছা রে বলব না। শোন্ না একটা কথা ছিল।

পিউ : হুম বলো।

মা : এবারে আসিস মা। অনেক দিন দেখিনি রে তোকে সেই এসেছিলি  আগের বছর পূজোতে।

পিউ : তুমি তো জানো মা ওর অফিসে ছুটি নেই সে ভাবে। আর আমাকে বাড়ি থেকে একা বেড়াতে দেবে না। সবই তো জানো মা।

মা : হুম জানি। আর ভাবি আমার ডাকাবুকো দস্যি আজ কত সংসারী হয়েছে।

পিউ চুপ আছে।

মা : কি রে চুপ কেন রে? বাবু হ্যালো।

পিউ : হ্যাঁ মা বলো। কিছু না এমনি। বলো।

মা : বাবু তোর কি আমার সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করে না সোনা?

পিউ : কি বল মা! (আর নিজেকে আটকাতে না কেঁদে ফেলে)

মা : কি রে কাঁদচ্ছিস কেন সোনা?

পিউ : মা আগের বার তোমার জামাই-এর অফিস ছুটি ছিল। কিন্তু আমি তোমাকে মিথ্যে বলেছিলাম ।

মা : মানে?

পিউ : শাশুড়ী মা  বললেন যে বনি (ননদ) আসবে। বিয়ের পর ওর প্রথম জামাইষষ্ঠী। আমি চলে গেলে লোকে কি বলবে তাই!

মা : থাক রে। আমি বুঝেছি।

পিউ : মা তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু!

মা : থাক্ সোনা কাঁদে না। তোর শাশুড়ী মা আছে সামনে। দে একটু কথা বলি।

পিউ : আচ্ছা দাঁড়াও।

অন্তিম পর্ব

একটু পরে

পিউ : হ্যালো মা নাও কথা বলো।

পিউ-এর মা : হ্যালো বেয়ান কেমন আছেন?

শাশুড়ী মা : আমি ভালো, আপনি ভালো তো?

পিউ-এর মা : হুম। বলছি শুনলাম বনি আসছে?

শাশুড়ী মা : হ্যাঁ। আর বলবেন না। ওর শরীর টা ভালো যাচ্ছে না কদিন ধরে। এই ষষ্ঠী তে আসবে তো ।

পিউ-এর মা : বাহ্ বেশ। তা জামাই কেমন হল আপনার?

শাশুড়ী মা : জামাই আমার দিদি খুব ভালো। একদম ছেলের মত জানেন। আমাকে খুব যত্ন করে। এই তো সেদিন ও তো এসে দেখে গেল।

পিউ-এর মা : সত্যি আপনার কপাল খুব ভালো বেয়ান, মনের মত জামাই পেয়েছেন। আমার কপাল টাই দেখুন আমার জামাই একদমি কেমন।

শাশুড়ী মা : মানে কি বলতে চাইছেন আপনি আমাল ছেলে খারাপ?

পিউ-এর মা : না তো, আপনার ছেলে তো ভালো আপনার কথা শোনে। কত ভালোবাসে। আমি তো আমার জামাই-এর কথা বললাম। যে আমার দুঃখ টা বোঝে না।

শাশুড়ী মা : কি?

পিউ-এর মা : হুম্ দেখুন। আমি আমার মেয়ে টাকে কত দিন দেখিনি। আমার জামাই যদি ভালো হত তাহলে সপ্তাহ ছাড়েন মাসে একদিন তো আমার খোঁজ নিতে পারত, সঙ্গে আমার মেয়ে টাকে ও আনতে পারত, তাই না? সত্যি আপনি খুব ভাগ্যবতী বেয়ান কত ভালো জামাই পেয়েছেন। আচ্ছা বেয়ান রাখছি। ভালো থাকবেন।

রিসিভার রেখে দিল শাশুড়ী মা। তার পর পিউ কে জিজ্ঞেস করল।

শাশুড়ী মা : বৌমা?

পিউ : হ্যাঁ মা বলুন।

শাশুড়ী মা : তপু এসেছে অফিস থেকে?

পিউ : হ্যাঁ মা। কেন?

শাশুড়ী মা : একটু পাঠাও।

পিউ : আচ্ছা।

একটু পর

অতনু : হ্যাঁ বলো ডাকলে কেন?

অতনুর মা : এবারে  জামাই ষষ্ঠীতে পিউ কে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাবি, কেমন?

অতনু : মানে?

অতনুর মা : মানে কিছুই না।

অতনু : বনিরা যে আসবে, আমি যাব কিভাবে?

অতনুর মা : হুম্ বনি আর আমার জামাই আসবে।

অতনু : হ্যাঁ তো ।

অতনুর মা : আমার ছেলে খুব ভালো। কিন্তু জামাই তুই ভালো নস। এবার ভালো জামাই হ। বুঝলি।

[বি.দ্র. : ছেলেরা ভালো ছেলে হয়। খুব ভালো। এবার ভালো জামাই ও হন। কেন না মেয়েদের যেমন বিয়ের পর দুটো পরিবার হয়। ঠিক সেভাবে ছেলেদের ও দুটো পরিবার হয়। মা-বাবার উপর দায়িত্ব যেমন সম্মানের সাথে পালন করে, ঠিক সেভাবে শাশুড়ী শ্বশুরের উপর দায়িত্ব পালন করা সমান ভাবে বরতায়।

একটি ঘরের যেমন লক্ষীমন্ত বৌমা আসে। ঠিক সে ভাবে নারায়ণসম জামাই ও আসে। যদি বৌমা মেয়ে হয়, জামাই তবে কেন ঘরের ছেলে নয়?]

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

0

1 thought on “জামাই ও ছেলে”

  1. গল্পটা খুবই ভালো। আপনার লেখা আগেও পড়েছি। খুবই ভালো লেখেন আপনি। তবে আমার মতামত যদি নেন তাহলে বলবো ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’-টা না দিলেও পারতেন, কারণ এটা দেওয়ায় পাঠকের চিন্তা ভাবনাকে একটা গণ্ডীর মধ্যে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে পাঠকের স্বাধীন চিন্তা ভাবনায় বাধা দেওয়া হয়ে যায়। বিশেষ দ্রষ্টব্যের বিষয়টা আপনার লেখনীর মাধ্যমে ফুটে ওঠাই শ্রেয়। আপনার লেখনীর ভুল ধরছি না, তবে আমার কথায় সে ভাব ফুটে উঠলে টা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী তার জন্য।

    0
    Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!