জোড়া শালিক – ৭

1+

আজ বিকালে অর্ক এসেছিল পমিদের বাড়িতে। গল্প করে যেতে যেতে একটু রাত হয়ে গেল। তাই পমিরও খেতে  যেতে দেরি হয়ে গেছে। খাওয়া শেষে পমি শুতে যাবে, এমন সময় পমি দেখল ওর পড়ার টেবিলে একটা চিরকুট পড়ে আছে। ‘কি ওটা? কোনো দরকারি কাগজ?’ কাছে গিয়ে হাতে নিয়ে খুলে দেখল পমি। আরে, এতো অর্কর হাতের লেখা।

“সূর্য উদয়ের আগে, উদয় হোক তোর,

কম্পিউটার টেবিলে লুকিয়ে আছে,

দেখতে পাবি চোর”।

‘কম্পিউটার টেবিলে চোর? মানে?’ পমির মনে খটকা লাগলো, তাও গিয়ে দেখল কম্পিউটার টেবিলে। আরে এখানেও যে ঠিক তেমনই আর একটা চিরকুট আছে। খুলে দেখল পমি।

“বারোটা বাজলে play করিস, ধৈর্য ধরে রাখি,

‘Desktop’এ তে আছে folder, নামটি ‘রঙিন আঁখি’-”

মোবাইলের আলোটা জ্বালিয়ে দেখল  বারোটা বাজতে আর দু-তিন মিনিট বাকি আছে। কম্পিউটারটা on করতে দু-তিন মিনিট লেগে যাবে।

অবশেষে কম্পিউটার on হল। বারোটাও বেজে গেছে ইতিমধ্যে। Folder-টাও পাওয়া গেছে। একি! folder তো ফাঁকা। শুধু আর একটা folder আছে। ঠিক আছে, ওটাও খোলা যাক। একি! same জিনিস আবার। ঠিক আছে আবার খোলা যাক। এই ভাবে বেশ কয়েকটা folder খুলে অবশেষে একটা video পেল পমি।

বারোটা তো বেজেই গেছে, সুতরাং play করা যেতে পারে। এমন সময় খুব জোরে একটা আওয়াজ হল, চমকে গেল পমি, বুঝল বেলুন ফাটার শব্দ, দিদি আর মা হাতে কেকের ট্রে নিয়ে এসেছে, “Happy Birthday বনু” বলে জড়িয়ে ধরল এশা। মা কপালে চুমু খেলো। তারপর কেক কাটা হল।

একটা সময় এই surprise party শেষ হয়ে গেল। এবার video টা দেখা যেতে পারে, double click করল video-টাতে। চলতে শুরু করল video টা। আরে, এতো অর্কর মোবাইলে তোলা video। video-তে অর্কই কথা বলছে।

“বাইশটা folder খুলে অবশেষে video টা play করলি তুই। শুভ জন্মদিন পমি। এই বাইশটা folder হল তোর জীবনের পার হয়ে যাওয়া বাইশটা বছর, যে গুলো অনেক আনন্দ-দুঃখের স্মৃতিতে ভরা। তাই এই folder গুলো দিলাম, সেগুলো ঠিক করে গুছিয়ে রাখিস। তোর জীবনের আগামি দিন গুলো ভালো কাটুক, তোর সব স্বপ্ন পূরণ হোক, God bless you। জানি video টা দেখতে একটু দেরি হয়ে গেলো তোর, দিদিরা surprise party plan করেছে। video টা শেষ হলে ফোন করিস”।

শেষ হয়ে গেলো video টা। video টা দেখে নিজের অজান্তেই অতীতের বাইশ বছরের স্মৃতি রোমন্থনে লেগে পড়ল পমি। মনে পড়ে গেলো বাবার সাথে কাটানো সেই জন্মদিন গুলোর কথা, সেই আনন্দের দিন গুলোর কথা। এসবের মধ্যে ভুলেই গেলো অর্ককে ফোন করতে হবে।  হঠাৎ পমির মনে হল ফোনটা vibrate করছে, হ্যাঁ, ঠিকই তো, অর্ক ফোন করেছে, মনে হয় আর দেরি সইতে পারছে না মনে হয় অর্ক। ফোনটা receive করলো পমি।

-“হ্যালো”

-“শুভ জন্মদিন sweet heart”

-“Thnak you”

-“কেমন লাগলো video টা”?

-“খুব সুন্দর” (গলাটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো পমির)।

-“আজকের দিনে মন খারাপ করতে নেই। আর টা ছাড়া আমি তো আছি। মন খারাপ করিস না”।

এই ভাবে নানা কথার মাধ্যমে শেষ হল ওদের কথোপকথন। সেই রাতে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়ল পমি। মনে এক অদ্ভুত খুশি, মা, দিদি, অর্ক wish করেছে জন্মদিনে।

পরদিন সকাল হল, সকালে উঠে প্রতিদিনের নিয়মে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল অর্ক ফোন করেছে কিনা, নাহ্, আজ ফোন করে নি, পরিবর্তে message করেছে।

“Happy Birthday Sweet Heart, Good morning”

একই সাথে আরেকটি ছড়া পাঠিয়েছে অর্ক।

“স্বপ্নের জাল বুনি তোর মনে গিয়ে,

চলে যা রান্না ঘরে, ফিরবি বার্তা নিয়ে”।

পমি বুঝে গেলো রান্না ঘরেও নিশ্চয় আরেকটা চিরকুট আছে। রান্না ঘরে গিয়ে দেখল মা চা করছে। পাশে মশলার কৌটোর ওপর একটা ভাঁজ করা কাগজ দেখতে পেল পমি, আরেকটা চিরকুট।

চিরকুটটা নিয়ে ঘরে ছলে এল পমি, সাথে মা-ও এসেছে, দিদিও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে, সবাই একসাথে বসে চা খাবে। চা খেতে খেতে চিরকুটটা খুলল পমি।

“ছাদের সিঁড়িতে সে অপেক্ষা রত

মিষ্টিবাবু বসে আছে, নিয়ে ভালোবাসার ফটো”।

মিষ্টি বাবুটা আবার কে? মনে মনে জিজ্ঞাসা করলো পমি। ঠিক আছে, ছাদের সিঁড়িতে গেলেই বোঝা যাবে। সিঁড়িতে গিয়ে দেখল একটা বিশাল size-এর Teddy Bear রাখা আছে, সাথে একটা gift rapper-এ মোড়া একটা বাক্স। Rapper টা খুলে বাক্সটা খুলল পমি, একটা ফটো অ্যালবাম, তাতে লাহান আছে অর্ক-পমির প্রথম তোলা ছবিটা।

খুব খুশি পমি আজ। একি! অ্যালবামের পেছনে আরেকটা চিরকুট! খুলল চিরকুটটা,

“দরজাটা খোলো যদি সম্মুখে তোমার

পাবে তুমি হাতে কাছে, সেরা উপহার (আমার দেওয়া)”

দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল পমি। দেখল অর্ক হাতে গোলাপ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাসি ভরা মুখ। পমির মনটা খুশিতে ভরে গেলো।

লাল গোলাপটা পমির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে অর্ক বলল,

“আর নেই কিছু বাকি, তোমাকে দেওয়ার

গোলাপেতে আমি আছি, জীবনে তোমার”।

পমির জন্মদিন আজ। অর্কর wish করার style তো আমরা সবাই দেখলাম। আমরাও আমাদের মতো করে পমিকে আজ wish করি।

আজ আমাদের ও আপনাদের সকলের প্রিয় জোড়া শালিকের পমির শুভ জন্মদিন। Progoti.co.in-এর তরফ থেকে পমি কে জানাই শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন।

-Team Progoti

রচনা – ঋতম

জোড়া শালিকের অন্য গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

1+

Leave a Comment

error: Content is protected !!