কোভিড-19 এর সুপ্রভাব

4+

কলমে -সম্পা মাজী

বিশ্ব ব্যাপি মারন ভাইরাস কোভিড -১৯ গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছে,এর ফলে মানুষকে আজ হতে হয়েছে গৃহবন্দী। মানুষ বাইরে বেরতে পারছে না , কাজ ও করতে পারছে না ফলে আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে প্রায় সমস্ত পরিবার। চলন্ত পৃথিবী হঠাৎ করে থমকে গিয়েছে, ব্যস্ততা ও আজ ভয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে গিয়েছে। এই কোভিড-১৯ যেমন কুপ্রভাব ফেলেছে তেমন এর সুপ্রভাব ও আছে।

সব থেকে বেশি সুপ্রভাব পরেছে প্রকৃতির ওপর, মানুষ আজ বাইরে না বেড়ানোর ফলে প্রকৃতির ওপর অত্যাচার হচ্ছে না তাই প্রকৃতি শান্তি পেয়েছে। কল কারখানা, যানবাহন ইত্যাদি বন্ধ থাকায় বায়ুতে দূষনের ভাগ কমেছে ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর কমছে ফলে পৃথিবীর ক্ষত ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। দূষিত বর্জ্য ও মানুষের অত্যাচার না হওয়ায় নদী- নালার জল সচ্ছ হচ্ছে , লুপ্তপ্রায় জীবনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে , সমুদ্রের প্রানীরা নির্ভয়ে খেলা করছে। এতোদিন শব্দের ফলে পাখিরা ডাকলেও সেই আওয়াজ মানুষের কানে পৌঁছত না কিন্তু এখন বিনা বাধায় ধ্বনিত হচ্ছে, পাখিরা মনের আনন্দে উড়ছে , খাচ্ছে, গাইছে ।
পশুদের কেও বনে মানুষের ভয়ে থাকতে হতো , নিজের এলাকায় ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতো না কিন্তু এখন পশুরাও নির্ভয়ে থাকছে। অন্য বছর গ্রীষ্মের চারিদিক শুকিয়ে যেত পশু পাখিদের জল খাওয়ার কষ্ট হতো কিন্তু বায়ুর পরিবর্তন হওয়ায় এখন প্রায় সময় বৃষ্টি হচ্ছে ,তাই চাতক পাখিকে জলের জন্য ‘ ফটিক জল ‘ বলে চিৎকার করতে শোনা যাচ্ছে না । এই গরমেও বৃষ্টি হওয়ার চারিদিক সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে , ফলে গত বছরের মতো মানুষকে ও জলের জন্য কষ্ট করতে হচ্ছে না। বায়ুর উষ্ণতা কমেছে , পৃথিবী তার আগের প্রকৃতির কিছুটা খুঁজে পেয়েছে।

শুধু প্রকৃতি না মানুষ ও অনেক সুফল পেয়েছে, অনেকেই কাজের চাপে পরিবারের জন্য সময় দিতে পারতো না বা অনেকের কাছে পরিবারের জন্য সময় থাকলেও তারা ভাবতো বাড়ির একঘেয়েমি মানুষ গুলোর সাথে থাকা অসম্ভব, বাড়িতে বেশি সময় থাকলে হাঁফিয়ে উঠতো, তাদের কাছে জীবনের মানে হল নিজের ইচ্ছে মতো বাইরের ঘুরে বেড়ানো, সারা দিন নিজেকে ব্যস্ততা রাখা, দোকানের সুস্বাদু খাবার খাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই সমস্ত মানুষ গুলোই আজ গৃহবন্দী তারা এখন কি সুন্দর ভাবে দিনের ২৪ ঘন্টা বাড়িতে থাকছে, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিজেকেও সময় দিচ্ছে, চঞ্চল বেপরোয়া মনকে নিয়ন্ত্রণে এনে বাড়ির পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করছে, মনের সুন্দর প্রবৃত্তি গুলো কে খোঁজার চেষ্টা করছে, যেই সুন্দর মনটার কথা এতো দিন ব্যস্ততার কারণে ভুলে ছিল। বাড়ি সদস্যদের সাথে সারাদিন সময় কাটাতে এতো ভালো লাগে ,সেটা এই লকডাউন না হলে জানতেই পারতো না।

এতোদিন যে হিংসা, মারামারি, চুরি ছিনতাই এর মতো কতো জঘন্য অপরাধ টিভি, নিউজ পেপার এর জায়গা করে নিত, সেখানে জায়গায় করে নিয়েছে করোনা নামক মহামারীর সংবাদ, এখন আর হিংসাত্মক ঘটনার শোনা যাচ্ছে না,ফলে বোঝাই যাচ্ছে হিংসাত্মক ঘটনা কমেছে। চুরিতো কমবেই কারন চোর এখন বাড়িতে প্রবেশ করার সুযোগই পাচ্ছে না বাড়ির মালিকেরা সব সময় বাড়ি আগলে বসে আছে তাই। আর হিংসা খুন- খারাপি করবে কার সাথে সবাইতো কোভিড -১৯ এর ভয়ে ঘরে বন্দি। মানুষ ভয়ে ও আর অন্য কারনেই হোক নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে চেষ্টা করছে, ফলে সমাজ পরিবর্তন আসছে।

বেপরোয়া গাড়ির গতিবেগের প্রতি দিন এই ভারতবর্ষে কতো গাড়ি দূর্ঘটনা ঘটে, কতো মানুষ তার প্রিয় জনদের হারাতো।( যদিও করোনার কারনে অনেক মানুষ তার প্রিয় মানুষদের হারাচ্ছে ) । করোনার ফলে গাড়ি থেমে গিয়েছে আর যে গুলো চলছে তাদের গতি কমে গিয়েছে, তাই কোনো দূর্ঘটনা ঘটেছে না।

এখন হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ ফলে সবাই বাড়ির তৈরি সুস্বাস্থ্য খাবার খাচ্ছে , বাইরের ফাস্টফুড থেকে পাচ্ছে না , তাই শরীরের কোনো দূষিত পদার্থ প্রবেশ করেছে না , মনের পাশাপাশি শরীর ও সুস্থ হচ্ছে। এছাড়া আর এক প্রকারের মানুষ আছে যাদের শরীরে কোনো রোগ নেই অথচ কারনে অকারণে ডাক্তারের কাছে কিংম্বা ঔষধ দোকানে ছুটে , এখন তারা যেতে পারছে না বা ভয়ে যেতে চাইছে না ফলে সেই সব রোগীর সংখ্যা কমছে , মানুষ আগের থেকে অনেক ভালো আছে, রোগীর সংখ্যা কমছে। (যদিও করোনার ভয় ভালো থাকতে দিচ্ছে না)।

করোনার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভক্তি বাড়ছে ।
নিজের গ্রাম নিজের দেশ কে যারা ভালো বাসতো না যারা মনে করতো নিজের দেশে কিছুই নেই কিংবা যা আছে তাও আবার ভালো না , যা কিছু সব বিদেশি ভালো এবং সব বিদেশে পাওয়া যায় কেউ আবার বলতো এদেশের মানুষের Status নেই ,সেই সব মানুষ গুলোই আজ নিজের দেশে ফিরে আসতে চাইছে সরকারের কাছে আকুতি মিনতি করছে । করোনার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা বাড়ছে।

সব কিছুর ই দুটো দিক হয় ,এক ভালো নয়তো খারাপ তেমনি করোনা ফলে যেমন অনেক খারাপ হয়েছে তেমনি কিছু ভালোও হয়েছে ।

4+

Leave a Comment

error: Content is protected !!