মেলবন্ধন

1+

এক বছর হল পিয়ালের আর অনয়ের বিয়ে হয়েছে। আর ৫টা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের মতোই। অনয় ইনকাম ট্যাস্কের অফিসার। আর পিয়ার গৃহিনী, সঙ্গে লেখালেখি করে।

সেদিন তাড়াহুড়ো করে অনয় বলল,

– কিগো, রেডী হও। যেতে হবে তো অনুষ্ঠানে। চলো চলো ।

– একটু সময় দাও, এই কাজ টা করেই আসছি।

– OK।

এই বলে অনয় বেডরুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসে যায়। হঠাৎ তার চোখ যায় খাটের ডান দিকের টেবিলে, ওখানে পিয়ালের ডায়েরীটা রাখা। মনে পড়ে যায় ওর। পিয়াল কে বাসর রাতে ওর প্রিয় অভ্যেস জিজ্ঞেস করাতে ও বলেছিল ডায়েরী লেখা সবচেয়ে প্রিয় অভ্যেস ওর। প্রায়ই রাতে অনয় দেখেছে ডায়েরী লিখতে লিখতে পিয়াল কাদঁছে। এসব ভাবতে ভাবতে অনয় স্থির করল আজ ঐ রহস্যের উন্মোচন করবে। এভাবেই পিয়ালের ডায়েরীটা অনয় সম্পূর্ণ পড়ল, পিয়ালের কলেজ জীবন থেকে বিয়ের আগের অবধি। অন্য পিয়ালকে সে জানল, চিনল। জীবনের প্রত্যেকটা মোড়কে উপলব্ধি করল।

ডায়েরীটা বিছানার ওপর রেখে অনয় রান্না ঘরে পিয়ালের কাছে যায়।

অনয়কে দেখে পিয়াল বলে,

– আর ৫ মিনিট দাও হয়ে গেছে ।

হঠাৎ অনয় পিয়ালের হাত দুটো ধরে চোখে চোখ রেখে বলল

– তোমাকে একটা কথা বলব?

– হুম, বলো.

– আমি তোমার পুরোনো ‘তুমি’ টাকে চাই। আমি প্রাণবন্ত ছটফটে পিয়ালকে চাই, যে শব্দের জেলে বন্দী আছে, যে তোমাকে হেলায় হারিয়েছে। যে তোমার মতন প্রাণ ঊজ্জ্বল মেয়ের মুখের হাসি কেড়েছে। প্লে বয় তাকে বলে। যে সময়ের অজুহাত দিয়ে তোমার হাত ক্ষতবিক্ষত করেছে তার আর যা কিছুই হোক ভালবাসা পাওয়ার কপাল নেই। অনুশোচনা, কষ্ট তার তোলা থাক পিয়াল। তোমার জন্য নয়। তোমার প্রতি আমার ভালো লাগা ভালোবাসার পথে পাড়ি দিয়েছে। আমার ভালোবাসা আমার স্ত্রী তুমি।

এই বলে পিয়ালের কপালে একে দেয় একরাশ ভালোবাসা। আর পিয়ালের চোখ হতে অজান্তেই নেমে আসে অতীতের কষ্টরা বর্তমানের উর্বর জমিতে।

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

1+

Leave a Comment

error: Content is protected !!