মনের বাঁধন

1+

সালটা ২০১৫ আমি তখন M.A. পড়ছি কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে। সবারই জীবনে আবদারের জায়গা একটি থাকেই। আমার ও ছিল আমার দিদা। সব ভাই-বোনদের মধ্যে আমিই ছিলাম দিদার নয়নের মণি, হৃদয়ের একাংশ। কিন্তু আমার জীবনে সবথেকে ঝড় উঠে ছিল এই ২০১৫ সালে। আমার দিদার ক্যানসার ধরা পড়ে। আমার দেখা সেই হাসিখুশি মানুষ টা  কিভাবে  যেন আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিচ্ছে নিজেকে রোজ। প্রতিদিন দিদাকে university ফেরত দেখতে যেতাম। কিন্তু একদিন সব শেষ হল। দিদা আর নেই। এটা সবাই মেনে নিল।শুধু আমি মানতে পারছিলাম না। সব সময় মনে হত দিদা আছে আমার সাথে। আমাকে দেখছে বুঝছে। এভাবেই একদিন দুপুর বেলা আমি  মামাবাড়ি গেলাম  university ফেরত। বরাবরই এই অভ্যসটাই ছিল আমার দিদা থাকাকালীন। বড়মামা আমাকে দেখে বলল, “যা মামন ওপরের ঘরে যা। আমি আসছি একটু পর”।

ওপরে দিদার ঘর। আমি ঘরে গিয়ে বসলাম। চারিদিকে দিদার ছোয়া আর স্মৃতি। ঘরে ঢুকে বাঁ দিকে বাথরুম-এ গেলাম ফ্রেস হতে। হঠাৎ মনে হল ঘরে কে যেন বসে আছে। ভাবলাম মামা হয়তো। আমি মুখটা ধুয়ে বেরাতে বেরাতে বললাম, “মামা ফ্যানটা একটু ছাড়ো”। হুম, ফ্যানটা সে ছাড়ল।

আগে দিদা থাকাকালীন আমি দুপুরে আসলে, দিদা আমের সরবত করে দিত। এটা ছিল মাস্ট।

আজ ও ঐ ঘর থেকে ফ্রেস হয়ে এসে  দেখি টেবিলে আমের সরবত। ঘরে ফ্যান চলছে। ভাবলাম মামা বোধহয় রেখে গেছে। মনে পড়ে গেল দিদার সাথে কাটানো আগের সব দুপুরের মূহূর্ত গুলো। তারপর সরবতে আমি এক চুমুক দিয়েই চমকে উঠি। সেই স্বাদ সেই ভাব। যেমন দিদার হাতে পেতাম। হঠাৎ মনে হল আমাকে কেউ ঐ ঘর থেকে উঁকি মেরে দেখছে। আমার সারা শরীর শীতল হয়ে গেল। দেখছি দিদা সামনে আমার, আমাকে বলছে, “তাড়াতাড়ি খা রে। ফেলে রাখতে নেই কত্ত দিন কইসি তোরে”। আমি দিদাকে দেখে আপ্লুত, সব ভুলে গেছি আমি, এবার ডাকার পালা তাকে “দিদা” বলে।

হঠাৎই দেখি বড় মামা সামনে দাঁড়িয়ে আমার আমাকে জিজ্ঞেস করছে, “কি রে, তুই ছাদে কি করছিস নীচে চল। কখন এলি এখানে”?

দেখলাম আমি ছাদের শেষ কিনারে দাঁড়িয়ে। আমার সামনে শুধুই ধু ধু করা দুপুরের পরিবেশ। আমার হাতে সরবতের গ্লাস নয় ছিল দিদার একটা শাড়ি; বুঝলাম আমার মন  দিদার আদর আর অভ্যেস এখনো ভুলতে পারেনি। আর ভুলেতে পারেনি অনুভবে আরেক জন ও আমাকে।

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

1+

Leave a Comment

error: Content is protected !!