প্রকৃত পুরুষ

2+

১0 টা 0৫ বাজে, ১১ টায় কলেজ। বাস-এর জন্য দাঁড়িয়ে আছে পারুল। অনেক দেরি হচ্ছে খুব। আবার দুদিন ধরে শরীরটাও ভালো নেই। পিরিয়ডের ডেট আছে সামনে। আজই তো ডেট। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ওর মা বলেছিল আজ যাস না শরীরটা ভালো নেই যখন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! যাইহোক, বাস এল। পারুল উঠল। শরীরটা সায় দিচ্ছেনা ওর। বসার সিট ও পায়নি তাই অগত্যা দাড়িয়ে আছে পারুল। কিন্তু শরীরে যে আর দিচ্ছে না। জানান দিচ্ছে শরীরের সমস্ত অনু-পরমানু। পিরিয়ড হয়ে পড়ল পারুল চলন্ত বাসে। কলেজ পৌঁছাতে এখনো ১৫ মিনিট বাকি। পাশের সিটে বসে থাকা একজন কাকিমা কে পারুল বলল, “কাকিমা একটু শুনবেন”?

– “হুম বলো”।

– “আমার মনে হচ্ছে পিরিয়ড হয়েছে। আপনি যদি একটু আমাকে বসতে দেন তাহলে ভালো হত”।

– “না গো আমার হাঁটু ব্যাথা। আমি দাঁড়াতে পারব না গো বেশিক্ষণ”।

– :ওহ। আচ্ছা ঠিক আছে”।

এবার আরো সমস্যা হতে শুরু করল। পারুলের শরীর আর দিচ্ছে না। সাথে আরো ১০ মিনিট, তারপর ১০ মিনিটের আরো হাঁটা পথ তারপর কলেজ। ভেবেই শিহরিত হচ্ছে পারুল। মনে মনে মা-এর বারণ উপেক্ষা করার জন্য অনুশোচিত হচ্ছিল। আবার এটাও feel  করছে সে যে বোধহয় দাগ লাগবে। আর ঠিক তাই হল। একজন মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। সে পারুলের এমন অবস্থা দেখে তাকে ইসারায় তার পরিস্থিতি বোঝালো। সঙ্গে একটু ভ্রুঁ কুচকে নিল।

এতক্ষণ ধরে এই সব কীর্তি মেল সিটে বসে থাকা একজন মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোক অনুধাবন করছিলেন।

পারুলের অপ্রস্তুত পরিস্থিতি ।

বসে থাকা ও দাড়িয়ে থাকা মহিলাদের আচরণ সব।

এবারে ঐ ভদ্রলোক উঠে নিজের সিট রেখে, পারুল কে ডেকে বলল, “মা যদি কিছু মনে না কর । একটা কথা বলব”?

– “হুম বলুন”।

– “তুমি আমার সিটে বস। আমি তোমার বাবার মত। আমি তোমার অবস্থাটা বুঝতে পারছি। আর খুলে কিছু বললাম না। এসো মা আমার সিটে বস। তোমার স্টপেজ এলে তুমি তখন নেমো। কেমন”।

পারুল একদৃষ্টে সেই ভদ্রলোক কে দেখতে থাকল। আর না চাইতেই চোখের বাঁধ তার ভেঙে গেল।

[বি. দ্র. : সব নারী যেমন সহৃদয়া হয়না। ঠিক সে ভাবে সব পুরুষ রাও নারী লোলুপ হয়না। কেউ কেউ আমাদের পিতৃস্থানীয় ভাতৃস্থানীয় হয়, যারা নারীদের নিজ মেয়ে ও ভগিনীর মত সম্মান দেয়।

তাই অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও অনেক পুরুষরাও আদর্শ প্রকৃত পুরুষের মত কাজ করে।]

রচনা – প্রিয়াঙ্কা

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

2+

Leave a Comment

error: Content is protected !!