স্নেহের পরশ

7+

।। ১ ।।

মাতৃদিবসের সকালে কোনো এক বহুতল ফ্লাটের ঘরে

— দেখো, আমাদের ছেলে মাদার্স ডে তে ইংলিশ rhyme লিখেছে।আজ অনলাইন প্রোগ্রামে বাবা মা কে  থাকতে হবে। so proud of you আয়ুশ।

।। ২ ।।

অন্যদিকে এক বৃদ্ধাশ্রমে কেয়ারটেকার দীনেশ থেকে ম্যানেজার সৌমিক সবাইকে মাতৃসম স্নেহ করেন সরলা দেবী। সেদিন সকালে,

— কি মাসিমা! নতুন কাপড় পরে সকাল সকাল কার জন্য গেটের কাছে বসে আছেন? কেউ আসবে নাকি?
— দীনেশ, আজ মাতৃদিবস আমার ছেলে এই দিনে আমার জন্য কিছু একটা লিখে নিয়ে দেখা করতে আসে তো প্রতিবার, এবার ও আসবে দেখো।

সকাল বেরিয়ে সন্ধ্যা গড়াতে চলে

— মাসিমা,এবার আপনি চলুন ভেতরে, এখন হয়তো কাজের চাপ বেশি তাই হয়তো দাদাবাবু কাল বা পরশু আসবেন। আপনি চলুন।

মন খারাপ করে ছলছল চোখ নিয়ে ভেতরে চলে যান সরোলাদেবী।মনখারাপ করা এক সন্ধ্যায় সরোলাদেবী জানতে পারেন ছেলের অনুষ্ঠানের জন্য খুব ব্যস্ত তার ছেলে বৌমা।

এমন সময় পেছন থেকে ডাক আসে

— মা!
— কে তুমি?
— আমি দীনেশ। জন্ম না দিলেও মা কে হারানোর পর মায়ের মতোই স্নেহ পেয়েছি আপনার থেকে। আমি পড়াশোনা শিখিনি বেশি, তাই বেশি লিখতে পারিনি। এটা পড়ুন

ধরা গলায় সরলা দেবী পড়েন,

“মাকে হারিয়ে বুঝেছিলাম
জগৎটা কত কালো
তোমার স্নেহে পরম সুখ
তুমি মায়ের মতোই ভালো”

— আর কাঁদবেন না মাসিমা আমরা সকলে আজ মায়েদের নিয়ে অনুষ্ঠান করছি। চলুন দেরি হয়ে যাচ্ছে।

হাসিমুখে দীনেশের হাত ধরে সেই দিকে চলে যায় সরোলাদেবী। এভাবেই বেঁচে থাক মায়েদের গল্প উড়তে থাকুক স্নেহের আঁচল।

7+

1 thought on “স্নেহের পরশ”

  1. আমার পৃথিবী অর্থাৎ মাকে তোমার লেখাটা পড়ে শোনালাম, খুব ভালো বলেছে। আমার ও ভালো লেগেছে ☺️☺️

    1+
    Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!