Bangla Kobita

Emon hou bangla kobita

এমন হও

10+

হিমালয় যেমন উঁচু , সবাই তার চূড়া দেখতে পায়না তেমন হও ;
গাছ যেমন সহজ , সরল অথচ খুব দামী তেমন হও ;
নদী যেমন প্রবহমান , কেউ তাকে আটকাতে পারেনা , তেমন হও ;
সমুদ্র যেমন অসীম , ফুরায় না , তেমন হও ;
চাঁদের যেমন কলঙ্ক আছে , তবুও সুন্দর তেমন হও ;
এমন হও যেন সবাই ছুঁতে না পারে , সবাই আঘাত না করতে পারে ।।

– সায়ন আইচ ।

10+
পৌলমী-bangla-kobita

পৌলমী

5+

নামের মানে সূর্যের রশ্মি,
আমার নিদারুন রাত্রি জীবনে আলো করেছিস তোর ওই রশ্মির নিক্ষেপে;
হয়তো এই আলোর অপেক্ষাতেই ছিলাম।
প্রথমদিন দেখেছিলাম তোকে বেরঙের অধিবেসে।
তবুও চোখ ফেরাতে পারিনি ,
তোর কাজল কালো চোখের মায়া ছেড়ে।
গভীর সমুদ্রের থেকেও গভীর সেই মায়া,
যেখানে ডুব দিলে নিজেকে খুঁজে পাওয়া হবে বরই মুশকিল।
নিকৃষ্ট ভেবেছি নিজেকে কারণ,
হয়তো আমাদের পার্থক্য বড়োই বিস্তর।
তবে ভালবাসায় কোনোদিন কার্পণ্য করিনি।
তোকে বারবার বুঝিয়েছি,
আমার জীবনের স্রোতহীন প্রবাহের তুই একমাত্র অভিমুখ।
তোকে নিয়েই ভাঙাগড়া, জীবনের ভালোবাসার সুখ।
আমাকে বলতেই হয় বারবার তোকে যে,
বাহারী শাড়িতে যখন নিজেকে মেলে ধরিস
পৃথিবীর ভূমিঘাসে;
তখন হয়তো রঙিন ফুল ও মূর্ছা যায় তোর ওই সৌন্দর্য্যের অভিলাসে।
যেখানে অনু পরমাণু মৌলিকতার ব্রত করলেও বিচরণ করে ভালোবাসার ভূমিতে,
সেই তোর নামের খোরাক।
কবিতার আনকোরা লাইনগুলো তোর কাছেই বেশ মিলে যায়,
শুধু মেলে না আমাদের মন।
তোর সঙ্গে মিশে যেতে সময় লাগেনি বিন্দুমাত্র।
যেন মনে হয়েছিল,
তুই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিস ভালোবাসার তাগিতে।
অবশ্য ভুলটা আমিই করেছি,
তোকে অগণিত ভালোবেসে।
জানি হয়তো মনে মনে,
অন্য কারোর ছবি আঁকিস,
হয়তো কাওকে ভালবাসিস!
সেটা ভুল হোক বা ঠিক,
আমি তোকেই বাসবো ভালো।
আমার ভালোবাসার নাম পৌলমী,
মানে সূর্যের রশ্মি;
আমার জীবনের আলো।

কলমে – জয় মণ্ডল

5+
চিরবিজয়ী

চিরবিজয়ী

6+

অরণ্যের আধিপত্য বিস্তারের গল্পটা শুনেছ?
ঠিক তেমনই আমিও এগিয়েছিলাম বিস্তার করতে এক মস্ত সাম্রাজ্য,
কিন্তু বৃথাফল পেয়েছি বারংবার।
কঠিন সত্যকে আমি মেনে নিতে অক্ষম ছিলাম,
তাই দূর্বলতা আমাকে গ্রাস করতে সক্ষম ছিল।
উঁচু উঁচু মিনারের প্রাচীরে খোদাই করা থাকতো অসংখ্য পরিশ্রমের ইতিহাস,
সেগুলোই ভেসে উঠতো আমার অক্ষিকোটরের দেওয়ালে।
নিদ্রায় সুপ্ত থাকার সত্ত্বেও ভেসে আসতো
সেই মানুষগুলোর আর্তনাদ;
যাদের প্রাণ অচীরেই চলে যায় শুধু,
রাজ্য জয়ের লোভে- ক্ষোভে।
বলি হয় শত শত প্রাণের কুঁড়ি।
সেই নিদ্রিত অসহায় মানুষগুলোর
লোহিত কণিকায় লেখা হয় বিজয়ী রাজার ইতিহাস।
রক্তবিন্দু জমাট বাঁধে নতুন রাজার সমারহে।
নতুন শাসন, নতুন আইন
বিস্তার হল রাজার সাম্রাজ্য।
রাজ্য জয়ের নেশা প্রবল থাকলেও,
সে মানবিকতার অধিক নয়।
তাই বিস্তারিত হয়নি আমার সাম্রাজ্য।
কালক্রমে ধ্বংস হতে শুরু করেছিল,
সাম্রাজ্যের প্রতিটা ইঁটের শিরদাঁড়া।
শত শত মানুষ রাজ্য ছেড়ে গেল চলে,
‘ব্যর্থ রাজার’ তকমা দিয়ে।
উপমাটা কিন্তু আমার মনে ধরেছে প্রবল,
তাই নিজেকে প্রশ্ন দিলাম।
সত্যিই কি আমি ব্যর্থ?
উত্তর এলো , হয়তো সমাজের পাষাণ  চোখে তুমি ব্যর্থ
কিন্তু আমার কাছে তুমি ‘চিরবিজয়ী’।

কলমে – জয় মণ্ডল

6+
নিষ্ঠুর-সত্য-bangla-kobita

নিষ্ঠুর সত্য

6+

বাইরে অশান্ত পরিবেশ, এক নির্মম ভাইরাস
যার কবলে আমরা আজ এক কঠিনতম সময়ে
গ্ৰীষ্মের প্রখর দাবদাহের মধ্যে হঠাৎ এক স্বস্তির বৃষ্টি ;
মানুষ তবুও ভীত আজ, কেবলই মনে ভয়।
দিন দিন মৃত্যুসংখ্যা বেড়েই চলেছে
চারিদিকে যেন এক প্রবল মহামারী, মড়ক
জীবজন্তুদের মধ্যে আজ যেন মানুষই অসহায় ;
মানুষ আজ গৃহবন্দী আর পশুরা বাইরে।
এ যেন ভগবানেরই লীলা, তাঁরই খেলা
যেমন কর্ম তেমনি ফল — আজ একথা স্পষ্ট
এ মারণ ভাইরাসের থেকে কবে রক্ষা পাবো আমরা ;
জননীর প্রসবব্যথার থেকেও এ ব্যথার কষ্ট যেন ভয়ংকর।
তাই আজ আমি মানুষ হয়ে দুহাত তুলে ভগবানের কাছে
কেবল অনন্ত যাত্রার লক্ষ্যে স্থির ।।

– সায়ন আইচ ।
তারিখ – ০১.০৫.২০২০.

6+
তুমি bangla kobita

তুমি

10+

তোমার চোখের ভাষা
বুঝতে আমি চাই ,
আমার হৃদয় জুড়ে
যেন তোমাকেই পাই ,
হঠাৎ বুকে কান্না ওঠে
আবার হারিয়ে যাই ,
তোমার মতো মনের মানুষ
আর কোথাও নাই।।

– সায়ন আইচ ।

তারিখ – ০৬.০৫.২০২০.

10+
opriyo golpo bangla kobita

অপ্রিয় গল্প

5+

সব গল্পের শেষটা লেখা যায়না
তবে এটা ট্রাজেডি না হতেও পারতো
কেউ যদি হঠাৎ আলাদা হাঁটতে চায়
সবটাই কি সাইকোলজির দায়?

এখন ফ্যাকাশে আসবাবের বার্নিশ,
রং চটে খসে পড়ছে, পুরোনো কার্নিশ।
এই ঘর তবে বদলে ফেলা ভালো
নতুন ঘরে বুঝি অনেক বেশি আলো।

দিব্যি মানুষ ভালো থাকে, সময়ে অসময়ে
ভালো থাকাটা আপেক্ষিক যার,রোজ নিয়মে।
ফাঁকা রাস্তা পেরোতেও সিগন্যালে রাখা চোখ
ফুসফুস এখন কালো শহরে বিষাদের স্মোক।

বাংলা খাতায় কঠিন অঙ্কের সমস্যা
কিছু নাহয় ফাঁকাই রেখে গেলাম,
কিছুর আবার সমাধান মিলেছে না কষে
আমারও এবার ফুরালো সময়, অবশেষে।

5+
sbikarukti bangla kobita

স্বীকারোক্তি

5+

আজ অবেলায়, ছন্দে হারিয়ে ফেলছি তোকে!
জানিস, খুব ইচ্ছে করছে, আগের দিন গুলিতে ফিরে যেতে।
মনে পরে তোর, প্রথম বারের দেখা?
সেই প্রথম কথা বলা।।
সেই চাপা ভয়, আজও কি মনে তাড়া করে?
একা দুজনে ঘুরতে গেলে, যদি কেও দেখে ফেলে!
সম্পর্কের শুরুটা যেন, অন্যরকম ছিল।
চাপা উত্তেজনায়, ভালোবাসাটা, বেশ গভীর ছিল।
আজ স্বপ্নগুলি আছে, ঠিক-ই, মাঝে গেছে, বিরাট ঝড়।।
আড়ম্বরতা আজ অনেক দূরে, তবুও রয়েছি আমি, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অনড়।
আজ সময়ের বড্ড অভাব, জানিস…?
তাই হয়ত, সম্পর্কের বাঁধনগুলিও করছে নালিশ।
তোর ইচ্ছের দাম হয়ত, পারি নি দিতে অনেক সময়,
হারিয়েছি কথার ভঙ্গী, হয়ত এনেছি অনেক তিক্ততা..
হয়ত, ভালোবাসায় ত্রুটি ছিল কিছু, কিন্তু খুদ ছিল না কখনো।
হয়ত, ব্যাক্তিগত চিন্তাধারায়, গুছিয়ে নিয়েছিলাম তোকে,
কিন্তু ভালোবাসায়, দূরে যাই নি কখনো।

5+
kobichitto bangla kobita

কবিচিত্ত

8+

সায়ন্তনী চক্রবর্তী

মনে সে কবি // ভাসে হরেক ছবি

চলে পদ‍্যকারী দ্বন্দ্ব।

কখনো ছন্দবোধ //অলঙ্কৃত রসবোধ

শুনতে লাগেনা মন্দ।।

বিরতি সময়ের নেশা // একঘেয়ে জীবন পেশা

আপন মনের শান্তি।

হরেক চরিত্র আসে // নাট‍্যমঞ্চে কাঁদে হাসে

কথিত দেশ অবন্তী।।

পুরাকালের কথা // ঐতিহ‍্যে জয়গাঁথা

রাজঘরানার ইতিহাস।

পাশে আছে বর্তমান // ব্রাত‍্য ভূষণে মূর্তিমান

সময়ান্তরে প্রতিভাস।।

বিচিত্র চিন্তনশৈলী //লেখনীর বন্ধনশৈলী

কবির নিজস্ব চিত্তে।

সমভাবের পাঠক // হলে এক যোটক

আসে কদর সমবৃত্তে।।

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

8+

উত্তর নেই

5+

সব আছে,

তাও যেন শূন্যতা-

পকেটে নয়, মনে।

সকালে চা হাতে, যন্ত্রটি

সাংকেতিক লাইক গোনে ।

জীবন বড়ই বিচিত্র –

চারিদিকে শুধু অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চরিত্র ।

হারিয়ে গেছে চেনা সব মুখ

অচেনা মুখের ভিড়ে,

বিদায় নিয়েছে সঙ্গিনী মোর

আমি একলা বসে নীড়ে ।

—অঙ্কিতা

5+
ekla ami bangla kobita

Ekla Ami

19+

একটা আকাশ একলা এখন
আবেগ গুলো থমকে তখন..
বসে আছি একলা পথে..
কার কি আসে তাতে..
আমি একা,তুমি একা..
সবাই তো একা..
একাই তো এসেছিলাম..
আর একাই তো যেতে হবে..
একলা একা একাকিত্বে আমিও আছি বেশ..
তুমিও তো থাকতে পারতে যদি না মনে করতে তোমার সব শেষ..
তুমিও হাসতে পারতে,
তুমিও গাইতে পারতে গান..
তাহলে চলো,শুরু করি বাঁচার আরেক অভিযান..
তখন মন ভরে নেবো শ্বাস,নিজের উপরে রাখবো বিশ্বাস..
সবকিছুরই বাঁধন ভেঙে উরে যাবো ঐ আকাশে..
বন্ধু হবে,বলো থাকবে পাশে..
জানো তো! ইচ্ছা ছিল আমার ওই দূরের আকাশ ছোঁয়া..
কিন্তু আমি নিকৃষ্ট ধুলো..
আমার কী স্বপ্ন দেখা ভালো…
জানি ধুলো ও কিন্তু আকাশ ছোঁয়..
উত্তপ্ত হয়,বায়ুর সঙ্গে ঘনিয়ে বৃষ্টি ঝরায়..
আমিও একদিন ঝড়ব..
অবিশ্রান এমনই এক ধরায়..
তাই জীবনটাকে নিজের করে..
নিজেরটাকে ভালোবেসে একলা চলো..
আমি ভালো আছি..
আমি ভালোই তো আছি,এটা শুধু একবার বলো..

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
19+

19+

মুখোমুখি : নারী ও পাখি

8+

জীবকুল শ্রেষ্ঠ পাখি
কূজনে আমাদের ডাকি
বলতে চায় কি —
অনুভব করেছ নাকি?

মেয়ে অসহায় নিরাশ্রয় হয়ে
শৈবালদামে পড়েনি বাঁধা, আপন স্রোতে বয়ে,
দেখিয়েছে নিজস্বতার পরিচয়
এভাবেও বেঁচে ফিরে আসা যায়।

পাখির মতাে স্বাধীন জগতে আর কে আছে ?
মানবকুল অধীন নিজবাসা মাঝে।
সন্তানপালনে ছােট্ট নীড়ের সূচনা
সেখানে দোঁহে মিলে কত না আলোচনা।

বনের পাখি হতে চায় মেয়েটি
খাঁচার পাখির আছে কোনাে সুখ কি?
নারী জীবন — ‘জন্ম হতেই বলি প্রদত্ত’
কভু সে মত্ত, কভু শান্ত চিত্ত।

জঠরে প্রাণের অঙ্কুরোদগম বয়ে
পালন করে সে বহু যাতনা সয়ে।
পক্ষী-মা যোগীর মূর্তি ধরে
মগ্ন প্রাণের সাধনা করে।

অদ্বিতীয় কর্মকান্ডে নেই তো তুলনা
জীবকুলের সকল নারীর শ্রেষ্ঠত্ব ভুলনা।
মুখোমুখি দুজনে মিলে একাকার
চেতনার ব্রহ্মান্ডে সবই সাকার।

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
8+

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

8+

আমার দুর্গা

24+

আমার দুর্গা মন্ডপে যে, আঁতুড়ঘরে জন্মায় –
শাঁখ বাজিয়ে বরণ নয়, স্বাগত কান্নায়।
আমার দুর্গার আগমনী সজ্জা, হয়না কুমারটুলি,
আঁধার গর্ভে দিন কাটে, শঙ্কিত আকুলি।
আমার দুর্গা থিম পূজো নয়, সরকারি স্কুলে যায়,
নীল-সাদা পোশাকে সর্বশিক্ষা, বিনা পয়সায়।
আমার দুর্গা প্রসাদ পায় না, পায় খিচুড়ি –
মিষ্টির কাছে স্বপ্ন দেখে, বাস্তবে শুকনো মুড়ি।
আমার দুর্গা সুন্দরী নয়, সবার দূর্গা যেমন,
রোদে পোড়া ক্লান্ত এক, ঘন মেঘ তেমন।
আমার দুর্গা অঞ্জলি পায় না, পায় লাঞ্ছনা,
মেয়ে হওয়ার মাশুল তার, নিত্য গঞ্জনা।
আমার দুর্গা যৌবন পায়, সবার দুর্গার মত,
লাল শাড়ি নেই তার, ছেড়া পোশাকের যত্ন।
আমার দুর্গা প্রতিবাদী নয়, ধরে না ত্রিশূল,
পশুর মতো অসুর তাই, রক্তাক্ত বৃক্ষমূল।
আমার দুর্গা সন্ধিপুজো নেই, নেই অকালবোধন,
কলঙ্কিত তনু, তাই কাজল চোখে রোদন।
আমার দুর্গার দশমী আসে, সবার দুর্গার মত,
মিষ্টি মুখে বিদায় নয়, নিষ্পাপ দেহের ক্ষত।
আমার দুর্গার সিঁদুর খেলা নেই, নেই স্বর্গ কৈলাস,
চিতার আগুনে বিসর্জন হয়, জীবন্ত লাশ।
আমার দুর্গা বলো কবে সবার দুর্গা হবে ?
প্রতিবাদের ত্রিশূল হয়ে, দুর্গা হয়ে রবে।

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
24+

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

24+

না হওয়া মেয়ে

6+

দম বন্ধ হয়ে আসছে –
একটু একটু করে,
“নষ্ট করে দাও ওকে
চিনেছি হবু বাবাকে গলার স্বরে।
এতদিন বেঁচে থাকা,
পৃথিবী দেখবে বলে,
আলো করে আসতে পারলাম না,
আমার মায়ের কোলে।
সেদিনের কথা খুব মনে পড়ে,
যেদিন নিভৃতে –
লক্ষ ভাই-বােন এর সাথে
ছােটার লড়াই জিতে,
হেরেই গেলাম শেষে এসে,
সংগ্রাম মাঝে।
হারিয়ে যাবো আজ,
কুমারী মায়ের লাজে।
চোখ ফোটেনি এখনও আমার,
হাত-পা খর্ব,
বাসস্থান তাই,
মায়ের আঁধার গর্ভ।
এবার হয়তো কলম থামবে
ফুটবে নাকো কথা,
শাণিত যন্ত্রের তীক্ষ্ণ খোঁচায় –
সার্থক জন্ম ব্যথা।
দেহে না থাকা প্রাণ,
ভালো ছিল এর চেয়ে,
মাগাে আমিই তােমার সেই
না হওয়া মেয়ে।

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
6+

6+
kobita purush o prokriti by sayantani

পুরুষ ও প্রকৃতি

5+

বিশ্ব তুমি পুরুষ, আধার শক্তি প্রকৃতি।
নদী, পাহাড়, অরণ্যানী, সমুদ্র — সম্পদ প্রতি।।
রেখে যাও গর্বের স্বাক্ষর, মনােরম অতি।
নদী মানে না বারণ সমুদ্রই গতি।।।
স্বচ্ছ, শান্তি, জীবনের প্রতীক লুটছে মানব জাতি।
পাহাড় অবিচল, গাম্ভীর্যে ভরপুর মতি।।
দেশকে বাঁচায় বায়ু রেখার নিয়ন্ত্রণের শক্তি।।
অহেতুক অলঙ্ঘ‍্যনীয় কি করে দূষিত, পলিথিনে ভর্তি।।
অরণ্য বা তপোবনে খুঁজে পাবে মনের শান্তি।
ভারসাম্যহীন বনসৃজন, উষ্ণায়নের জেরে অশান্তি।।
গভীরতার বৈশিষ্ট্যে অপ্রতীম রত্নাকর হচ্ছে লুন্ঠিত।
জলস্তর বাড়ছে বলে পরিবেশবিদ খুবই চিন্তিত।।
জীবনের সলিল সমাধিতে উঠবে প্রশ্ন, নেই মুক্তি।
অসীমের নিচে সীমিত মানব মনের ফুর্তি।।।
ব্যোমরাজে অসংখ্য তারামণ্ডলের আর্তি।
বিশ্ব তুমি পুরুষ, আধার শক্তি প্রকৃতি।।
যেমন বর্হি পরিবেশ পরস্পরকে ছাড়া ভারসাম্যহীন মূর্তি।
তেমনি সংসারে দুয়ে মিলে গড় জীবনের সেঁজুতি।।
গোলক ধরণীতে বৈচিত্র্যের ঐক্য বাঁচার আকুতি।
সৃষ্টিকর্তার অপরূপ খেলায় মেতেছে জীবকুল এটাই স্বীকৃতি।।
খেলার নিয়ম ভেঙ্গে সঙ্কটে সেই মানব জাতি।।
আত্মসমালোচনার ঝড়ে কালের পরম্পরার বিকৃতি।।
সংসারের, ঘরে বাইরে নারী পুরুষ সমান কৃতী।
সমঝোতায় শান্তির নীড় নতুবা বলি নিয়তি।।
কর্মে সফল পিছনে দেখুন প্রেরণা গৃহকর্ত্রী।
শুভ অশুভের তুলাদন্ডে দেখি অর্ধনারীশ্বর জ্যোতি।।
বিশ্বের দরবারে রমনীয় শোভার সূচক জয়তী।।
পরিপূরক একে অন্যের তবে সুখের সমাপ্তি।।

Author: সায়ন্তনী

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
5+

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

5+
বাপের ছেলে

বাপের ছেলে

3+

বাঃ বাঃ বাঃ তোরা তো দারুণ বাপের ছেলে, এতো জলদি বাপকে করলি ক্ষমা!

চোদ্দ, সতেরোর দুই ছেলের বাপ ছাড়ল মাকে, ভুললি তোদের অপমানিত মা!

দৌড়ে যাচ্ছিস রোজ বাপের কাছে, লুচি মাংস বেশ রোজ সাঁটাচ্ছিস,

নতুন মাকে ধরলো মনে, আর তাই নিজের মাকে দূর করেছিস।

রক্ত রক্ত, এসব তো রক্তেরই গুণ, বাপের টাকাই আসল উৎস স্নেহের

এই মা তো বড় গরীব, তাই করলি না কদর তোদের মায়ের।

সামনে পিছনে হা হা হি হি করছে যে সব, দোষটা যেন আমার হয়েছে

দ্যাখ দ্যাখ দ্যাখ ঐ যাচ্ছেরে সে, যার বরটা আবার বিয়ে করেছে।

তোদের বাপের আবার সাহসটা দ্যাখ, ফ্ল্যাট কিনেছে পাশের পাড়ায়

বুক ফুলিয়ে রোজ হেঁটে যায়, নতুন বউ তার পাশে হেসেই গড়ায়।

কোনো লোকে তাকে কিছু বলে না, পুরুষ মানুষ তাই সবাই দেখে

আর মেয়ে মানুষের বেচাল হলেই আঙ্গুল তুলে দেখায় তাকে।

একই পোস্ট অফিসের এজেন্ট সেও, না চাইলেও দেখতে যে হয়

নিতেই পারে অন্য কোথাও বদলি করে, চোখের সামনে ঘোরে ফেরে হায়।

আমাকে দেখে সে চোখের কোণায়, আমি কটমট করে তাকিয়ে থাকি

তাতে যে তার থোড়াই কেয়ার, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখি।

লোক গুলোতো মন বোঝে না, ওদের রোজ চাই টাটকা শরীর

দুটো বিইয়ে আমার ফিগার গেছে, তাই বুকেই সোজা মারল যে তীর।

পঞ্চাশ পেরিয়েও শরীর খিদে, ধন্য তোমার যৌবন ক্ষমতা

ভেবোনা তোমারও হিসাব হবে, ঘরে তুলেছতো কচি অনাঘ্রাতা।

মেয়েটারও বাপু বলিহারী যাই, বরতো রে তোর বাপের বয়সি ওরে

কি দেখে তুই মজলি মাগী, তোর শরীর জ্বালাও ঘুচবে নারে।

ঠিক হবে তুইও খুঁজলে দেহ, দেখবে তখন ঐ বজ্জাত চেয়ে চেয়ে

ফিরতে এলে তখন মারবো লাথি ওর মুখে এই জোড়া পায়ে।

এই আশাতেই বাঁচতে পারি হয়তো আরো একশো বছর

কটা টাকা ফেলেই পালিয়ে গেলো, আমিও শেষের গুনছি প্রহর।

তোরাই তো আমার বাঁচার কেন্দ্র, তোদের জন্যই তো আমার বাঁচার লড়াই

সেই তোরাও নিজের স্বার্থ খুঁজছিস, আর করছিস তোরা বাপের বড়াই।

জানিসতো মায়ের এতো রোজগার নেই, কিনে দিতে পারেনা দামী মোবাইল

তাই তোরা যাস্ বাপের দোরে, গলায় ঢালবো আমি ফিনাইল।

যে ছেলেদের আমি পেটে ধরলাম, তারাও আমার দুঃখ বুঝলো নারে

আবারও জিতল তোদের বাবাই, দুখী মা-রা চিরকাল যায় যে হেরে।

রচনা – পার্থ ঘোষ

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
3+

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

3+
error: Content is protected !!