বাপের ছেলে

3+

বাঃ বাঃ বাঃ তোরা তো দারুণ বাপের ছেলে, এতো জলদি বাপকে করলি ক্ষমা!

চোদ্দ, সতেরোর দুই ছেলের বাপ ছাড়ল মাকে, ভুললি তোদের অপমানিত মা!

দৌড়ে যাচ্ছিস রোজ বাপের কাছে, লুচি মাংস বেশ রোজ সাঁটাচ্ছিস,

নতুন মাকে ধরলো মনে, আর তাই নিজের মাকে দূর করেছিস।

রক্ত রক্ত, এসব তো রক্তেরই গুণ, বাপের টাকাই আসল উৎস স্নেহের

এই মা তো বড় গরীব, তাই করলি না কদর তোদের মায়ের।

সামনে পিছনে হা হা হি হি করছে যে সব, দোষটা যেন আমার হয়েছে

দ্যাখ দ্যাখ দ্যাখ ঐ যাচ্ছেরে সে, যার বরটা আবার বিয়ে করেছে।

তোদের বাপের আবার সাহসটা দ্যাখ, ফ্ল্যাট কিনেছে পাশের পাড়ায়

বুক ফুলিয়ে রোজ হেঁটে যায়, নতুন বউ তার পাশে হেসেই গড়ায়।

কোনো লোকে তাকে কিছু বলে না, পুরুষ মানুষ তাই সবাই দেখে

আর মেয়ে মানুষের বেচাল হলেই আঙ্গুল তুলে দেখায় তাকে।

একই পোস্ট অফিসের এজেন্ট সেও, না চাইলেও দেখতে যে হয়

নিতেই পারে অন্য কোথাও বদলি করে, চোখের সামনে ঘোরে ফেরে হায়।

আমাকে দেখে সে চোখের কোণায়, আমি কটমট করে তাকিয়ে থাকি

তাতে যে তার থোড়াই কেয়ার, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখি।

লোক গুলোতো মন বোঝে না, ওদের রোজ চাই টাটকা শরীর

দুটো বিইয়ে আমার ফিগার গেছে, তাই বুকেই সোজা মারল যে তীর।

পঞ্চাশ পেরিয়েও শরীর খিদে, ধন্য তোমার যৌবন ক্ষমতা

ভেবোনা তোমারও হিসাব হবে, ঘরে তুলেছতো কচি অনাঘ্রাতা।

মেয়েটারও বাপু বলিহারী যাই, বরতো রে তোর বাপের বয়সি ওরে

কি দেখে তুই মজলি মাগী, তোর শরীর জ্বালাও ঘুচবে নারে।

ঠিক হবে তুইও খুঁজলে দেহ, দেখবে তখন ঐ বজ্জাত চেয়ে চেয়ে

ফিরতে এলে তখন মারবো লাথি ওর মুখে এই জোড়া পায়ে।

এই আশাতেই বাঁচতে পারি হয়তো আরো একশো বছর

কটা টাকা ফেলেই পালিয়ে গেলো, আমিও শেষের গুনছি প্রহর।

তোরাই তো আমার বাঁচার কেন্দ্র, তোদের জন্যই তো আমার বাঁচার লড়াই

সেই তোরাও নিজের স্বার্থ খুঁজছিস, আর করছিস তোরা বাপের বড়াই।

জানিসতো মায়ের এতো রোজগার নেই, কিনে দিতে পারেনা দামী মোবাইল

তাই তোরা যাস্ বাপের দোরে, গলায় ঢালবো আমি ফিনাইল।

যে ছেলেদের আমি পেটে ধরলাম, তারাও আমার দুঃখ বুঝলো নারে

আবারও জিতল তোদের বাবাই, দুখী মা-রা চিরকাল যায় যে হেরে।

রচনা – পার্থ ঘোষ

ভালো লাগলে অবশ্যয় লাইক করবেন 👇
3+

আপনার লেখা এখানে প্রকাশিত করার জন্য  নীচের বাটন-এ ক্লিক করুন

3+

Leave a Comment

error: Content is protected !!