নিস্তেজ চিঠি

0
  1. কেমন আছো ?প্রশ্ন টা করে তোমায় বিব্রত  করবো না।আমি জানি তুমিও উত্তর দেবে না ,হয়তো তোমার ও ইচ্ছে করে জবাব দিতে।কিন্তু দিলে বাঁদর টা কে কাঠে চড়ানো হবে —
  2. আজ জানি কেনো জানিনা তোমাকে ঘিরে লিখতে ইচ্ছে পোষোণ হল— তোমাকে জানাতে চায়ছি যে আমি বেঁচে আছি এখন ও।।
  3. চিঠি লেখা আমার অভ্যাস ,তুমি তো জানোই।অনেকেই বাংলার দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার দিয়েই ,আর কোনও দিন চিঠির ধার খেসিনি।আমি অবশ্য তাঁদের মধ্যে নয়,আমি -আমি পত্র প্রেমিক।- মন ভালো থাকুক কিংবা খাড়াপ আমি এখনও নিয়মিত চিঠি লিখি,চেনা-অচেনা প্রায় সকলেই ।
  4. জানো অবাক বিষয় হল – আমার বেশির ভাগ লেখা চিঠি গুলি ,রয়ে যায় ডায়রির” নিস্তেজ” পাতাতে তে!কেনো না আমি যাদের চিঠি লিখি তাঁদের কারুর ঠিকানা আমার জানা নেই ,অথবা প্রায় সময় অনেক ঠিকানাই জানা থাকে ,তবে আমি নিশ্চিত যে তাঁরা উত্তর দেবেন না ।।
  5. কিছুক্ষন আগে আমি একটি চিঠি লিখেছি কাকে জানো ? ওহ তোমাকে তো বলাই হয় নি; আমি চিঠি টা লিখেছি মৃত্যুকে আহব্বান জানিয়ে ,কে জানতো ?সে ও মুখ ফিরিয়ে নেবেন।!
  6. জানিনা যে প্রেম আমার ছিল না ,তাকে ও খুব কাছ থেকে অনুভব করেছিলাম,আমি ছুয়ে দেখেছিলাম তোমার জরাক্রান্ত মন কে।একাধার কাটা তাঁর ভেদ করে তোমার ক্ষত গভীরে লিখে এসেছিলাম কিছু মূল্যবান শব্দ।যে রাতে তোমার শব্দরা খসে পড়েছিল আমার কবিতা লেখা খাতার ভাঁজে ,তখনও কিন্তু অভিমানে অজস্র শব্দ দিয়ে তোমায় আঘাত হানিনি।।
  7. জানো সুর্য না খুব নিস্ঠুর ,দিনের আলোয় আমার চোখের জল শুখিয়ে দেয় ,কাঁদতে পারি না -পারি না কাঁদতে আমি ।তুমি ভেবেছিলে সবই হয়তো আমার মিথ্যে অভিনয় ।কিন্তু জানো ভোর রাতের জোনাকি রা ,আমাকে দেখেছে ভিজতে ,তাঁদের সংঘবদ্ধ আলোয় চিক মিক করে উঠেছিল আমার এই শুখনো মুখ খানি।
  8. আচ্ছা মনে পরে তোমার ?আমরা এক সাথে সেই ক্লাস রুমে একে অপর কে হাসতে  দেখেছিলাম ,কত সুন্দর ই না ছিল সেই অ ভাগা দিন টি।কয়েক মাস আমি স্তম্ভিত ছিলাম ,অপেক্ষা করতাম ছুটির পরে স্কুলের সদর দরজায় ।কী অপুরুপ ছিল সেই মুহুর্ত ।একটি বার তোমার ওই ঠোঁট বেকানো হাসির জন্য পিছু পিছু বহুদূর পথ অতিক্রম করতাম । হাজারো বাহানোর ছলে ভেসে বেড়াতাম ।ধীর অপেক্ষায় থাকতাম বছরের সেরা দিন গুলির জন্য ,আজ ও থাকি বদলাই নি এতটুকুও ।তুমি নিস্ঠুর বলতে পারো একাধারে ,কিংবা সময়ের সাথে নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে পারিনি ,হ্যাঁ আমি এখনও এরকম টা আছি ।।

আজ থেকে অনেক বসন্ত পেরিয়ে কোনও এক মৃত্ বিকেলে সুমুদ্রের ধারে ,মন পছন্দের ব্যালকনি তে গরম গরম কফির কাপে তোমার ওই ঠোঁট ছোঁয়াবে ।তখন-তখন তোমাকে মনে করিয়ে দেবে পুরনো সেই স্মৃতি গুলো ।আলগোছ চুমুক দিতে গিয়ে হয়তো ঠোঁট টা একটু পুড়িয়ে ফেলবে।কিন্তু তোমার বুকের ভিতর হঠাৎ ই শিরশিরানির জ্বালা বয়ে যাবে, এক টুকরো পাতা ঢাকা দেওয়ার চেস্টা মাত্র ছাড়া থাকবে কোনও অবশেষ।।

তোমার বেড রুমের আয়না বার বার তোমায় অপরাধী প্রমাণ করবে ,সেই বিকেলে চোখ ভিজিয়ে ঝাঁপসা আলোয় দেখতে পাবে আমার অজস্র প্রতিচ্ছবি ।

সুস্থ থেকো প্ৰিয় খুশিতে ভরে উঠুক তোমার বেঁচে নেওয়া আনন্দময় জীবন।ভালো থেকো হাজারো খারাপের ভিড়ে ।।

বিদায়

ইতি -অরূপ

0

Leave a Comment

error: Content is protected !!