পরিহার

1+

 

প্রত্যন্ত গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ ছেলে আমি।
কঠিন থেকে কঠিনতম পরিস্থিতির আলিঙ্গন পেয়েছি বারংবার,
তবে ভেঙে পড়ার বিপরীতে অগ্রসর হয়েছি সবসময়ই।
সৃষ্টিশীল আমিটাকে অনায়াসেই লুকিয়ে ফেলতে পেরেছি ,
অহীন অনাসৃষ্টির আঁধারে।
উক্ত সময়ে পাশে থাকার লোকের ছিল ঘোর অভাব।
চারিদিকে হিংসা,লোভ- ক্ষোভ গ্রাস করেছিল
মানুষের চরম মানসিকতাকে।
তুমি নরম স্বভাবের মানুষ ,
এই কাঠিন্য পরিবেশে তুমি বাঁচতে পারবেনা।
এখানে থাকলে, তোমার পেরিকার্ডিয়াম ও শক্ত হয়ে পাষাণ হবে।
এমনকি তোমার লোহিত কণিকার জীবনকাল হ্রাস পাবে!
তখন তুমি মানুষ হতে পূর্ণ অমানুষে পরিণত হবে।
সূর্যের রক্তাভ যেমন গোধূলিতে, সূর্যকে ছেড়ে দিগন্ত ছোঁয়,
তেমনই তোমার রক্তের তেজ তোমাকে ছেড়ে উবে যাবে ঠিক কর্পূরের মতো।
পার্থিব ইচ্ছাগুলোকে সবিনয়ে গোপন রেখেছি,
শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত সমাজে মানিয়ে নিতে।
কবিগুরুর সৃষ্টি ‘ সাধারণ মেয়ে ‘র মতো ,
আমার ইচ্ছাগুলোও ছিল সাধারণ।
একটা ছোটো সংসার, সামান্যটুকু বেতন ;
আর যাতে দিতে পারি নিজের ইচ্ছার দাম।
ভয় হতো, কখনো না নিজের ইচ্ছার দাম পরিশোধতে নিজেই না নিঃস্ব হয়ে যাই।
জীবনের সমাকলন গুলো কঠিন হলেও নিজেই কষেছি।
উত্তরটা ভুল হোক বা ঠিক , নিজের প্রতি ছিল অটুট বিশ্বাস।
কঠিন সময়েও হেরে যেতে দিয়নি নিজেকে।
মনেপরে, মায়ের মৃতদেহটা নিয়ে সৎকারের জন্য ঘুরেছিলাম সমাজের প্রতিটা দোরে।
তখন কেও পাশে আসেনি!
আসেনি সেই মানুষগুলো ,যারা সমাজের নামে বড়ো বড়ো বুলি আওড়ায়।
আসেনি সেই নেতা মন্ত্রী ,যাদের কাছে আমার একটি মাত্র ভোট ও নাকি খুব মূল্যবান!
তখনই বুঝেছি আমি ,
সমাজ একভাবে আমাকে পরিহারই করেছে।
তাই আমি অনায়াসেই এখন বলতে পারি,

সমাজের কল্যাণের নয়,
অকল্যাণের পাত্র হতে চাই !
সমাজ ও খুব নিষ্ঠুরভাবে করেছে কিন্তু আমি অতি সহজেই করলাম ‘ পরিহার ‘।
কলমে- জয় মণ্ডল

1+

Leave a Comment

error: Content is protected !!