পুরানো সেই দিনের কথা

1+

আমাদের জীবন এ যে সময় টি আমাদের মনে চিরকাল একটা চাপ ফেলে রাখে এবং যে সময় কে ঘিরে সব থেকে সুমধুর স্মৃতি গুলো জড়িয়ে থাকে সেটা হল আমাদের শৈশবকাল | ছোট বেলায়  স্কুল এর প্রথম দিনটা থেকে বাইরের জগৎ এর সাথে আমাদের পরিচয় গড়ে ওঠে ,ও সূচনা হয় একটি মিষ্টি সম্পর্কের  যাকে বলে ‘বন্ধুত্ব ‘| আমার জীবনের শুরুটাও ঠিক এই ভাবেই | স্কুল এর প্রথম দিনটিতে অনেক অপরিচিত মানুষের মাঝে নিজেকে  একা মনে হওয়ায়  preyar ground-এ  কান্না যখন থামছিলোনা ,তখন একটি সমবয়সী মেয়ে এসে  আমার চোখের জল মুছিয়ে দেয়  সে তার  নাম জানায় দেবলীনা ,শুরু হয় মিষ্টি সম্পর্ক | তারপর স্কুল এ এসে  দুজন একসাথে  বসা  ,টিফিন ভাগ করে  খাওয়া ,একসাথে খেলা করার মধ্যে দিয়ে বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে আরো গভীর হয়ে ওঠে | কিছুদিন পরে জানতে পারি দেবলীনার বাড়ি আমার ঠিক  তিনটে বাড়ি ছাড়িয়ে | বন্ধুত্বের গভীরতার পরিণতির হিসাবে দুজন হয়ে উঠি দুজনের সব সময়ের সঙ্গী | স্কুল এ সারাক্ষন দুজন দুজনের  সঙ্গে থাকার সত্তেও ,ছুটি থাকলে দিনের বেশির ভাগ সময় দুজনে একসাথে হয়ে আমি ওর বাড়ি কাটাতাম নাহলে ও আমার বাড়ি এসে কাটাতো | এই ভাবে চলতে থাকে প্রায় সাত বছর | দুজন হয়ে উঠি  দুজনের প্রাণ এর বন্ধু ,এই সময় আমাদের জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটে যা দুজনের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছিল | ছুটিতে একদিন দেবলীনা আমার বাড়ি এসে বলে ওর বাবার কাজের জন্য ওদেরকে  আসানসোল বদলি হয়ে যেতে হবে  পরের মাসে ,দুজনের চোখে তখন অশ্রু  ছল ছল করতে থাকে | তাকে বিদায় জানানোর আগের ও পরের কিছুদিন দুজনের খুবই নীরবতায় কাটে ,খাওয়া দাওয়া এবং দিনের বাকি সব কাজে বিষন্নতার সৃষ্টি হয় | অবশেষে এসে সেই দিন আমি বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম ,দেবলীনা আসে ,দুজনের কান্না সেদিন আর  বাঁধ মানেনা ,দুজন  একে  ওপর কে জড়িয়ে কাঁদতে থাকি | সে তার বন্ধুত্বের চিহ্ন স্বরূপ তার কাছে আমার একটি বই রেখে যায় এবং “আবার নিশ্চই দেখা হবে রে বন্ধু “এই বলেই বিদায় জানায় |

1+

Leave a Comment

error: Content is protected !!