সাম্প্রতিক লেখা সমূহ

কবিতাঃ “কিছু লিখতে হবে”

0
কবিতাঃ”কিছু লিখতে হবে” কলমেঃ আবু তাহের তারিখঃ২৭.১১.২০ গদ্য কবিতা (সাতক্ষীরা) আজ কয়দিন হলো কি যেন হয়েছে, কলম ধরতে মন চাচ্ছে না জানিনা কেন এমন হয়েছে। যে কলম আমার হাতের বন্ধু তাকে ছেড়ে আজ কিভাবে থাকছি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি সারাক্ষণ। এই জানা না জানার ভিড়ে একটা কথা বার বার উঁকি দিচ্ছে মনে তাহলে কি আমি আমার ভাল লাগার শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছি? তার মানে এত দিন যে সব ভাললাগা ছিল আজ তা শেষ হতে চলেছে? না এটা কখনোই হতে দেওয়া যাবে না জোর করে হলেও আমি আমার এই কলমকে হাতের নাগালেই রাখবো, আমাকে কিছু না কিছু লিখতেই হবে নাহলে আমার এ হাত যে অসাড় হয়ে যাবে কলম খাতা ছাড়া। হা, হা লিখতেই হবে, কবিতা তার ছন্দ ফিরে পাক আর না পাক। কলম চালাতেই হবে উপযুক্ত কোন শব্দ খুঁজে পাই আর না পাই। আজ মনে হয় শব্দ ভান্ডার গুলো ও আমার সাথে আড়ি পেতেছে মনের সমস্ত অলিগলি খুঁজেও কোন শব্দগুচ্ছ পেলাম না, যে পাশাপাশি বসিয়ে কিছু প্রকাশ করবো? কিছু অব্যক্ত বাসি চিন্তা উগরে দিবো, না কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছি না নাকি আমি আমার ভাবনার আকাশ থেকে অন্য কোথাও হারিয়ে গেছি? তাই বুঝি সমস্ত শব্দ অন্য আকাশে উড়াল দিয়েছে, এটাও কি সম্ভব? সম্ভব অসম্ভবের বাচবিচার না হয় পরে হবে, এখন আমাকে কিছু লিখতে হবে এভাবে সৃষ্টিশীল হাত নিশ্চল ঘড়ির কাটার মত থেমে থাকতে পারে না, কারখানার নষ্ট মেশিনের মত ক্ষুদ্র ব্রেন নামক ট্রেনটা থেমে থাকতে পারে না। ওকে বসিয়ে রাখলে ওতো অকেজো হয়ে যাবে, নানা কু চিন্তা ভর করবে মগজে। না,না আর সময় ক্ষেপন নয়, আমি জানি আমার এ হাত যখন তখন থেমে যেতে পারে আজরাইল এর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। যেটুকু সময় পাই সাদা কাগজে কিছু হিজিবিজি লিখে যাই, তবু তো বসে থাকার চেয়ে ভাল। আজ আমি যে সময় টুকু অলস পার করছি? এই সময় টুকু যদি কবি নজরুল রবীন্দ্রনাথ হায়াতে পেতো নিশ্চয়ই বাংলা সাহিত্য আরো অনেক সমৃদ্ধ হতো। আর আমরা সেই মহা মুল্যবান সময় কে গুরুত্বই দিচ্ছি না। না,না আর নয়, সাদা কাগজ আর সাদা থাকবেনা কলমের আলিঙ্গনে হয়ে উঠবে সাদাকালো কবিতার পাতা। হৃদয়ের গহীন ভাবনার কালিতে আঁকা হবে কাব্যের নকশী কাঁথা।
0
/

কবিতা ” আমি মাস্ক”

1+

কবিতাঃ “আমি মাস্ক”
কলমেঃ আবু তাহের
তারিখঃ২৪.১১.২০
গদ্য কবিতা

আমার জন্ম বৃহৎ কোন কাপড়ের
ক্ষুদ্র কোন অংশ থেকে।
কাটিং মাষ্টারের ধারালো কেঁচির দুচোয়ালের মধুর মিলনে,
সুদক্ষ কারিগরের সেলাই মেশিনের
প্রচন্ড চাপে,
সুই সুতোর নিবিড় আলিঙ্গনে,
ক্ষত বিক্ষত অজস্র বন্ধনে
আয়রন মেশিনের প্রচন্ড তাপের
অসহ্য গরল পরশে।

আগে কিন্তু আমাদের কেউ
মাস্ক বলতো না,
বলতো কাপড় বা কাপড়ের টুকরো
এখন আমাকে সবাই মাস্ক বলে ডাকে
এতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।

তবে মন খারাপ হয় কখন জানেন,
যখন আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে।
আমার জন্ম নিয়ে কটুক্তি করে তখন, আমার জন্ম নাকি গরুর মুখের ঠুসি থেকে।
বলেন কি খারাপটাই না লাগে?
তবুও এই বলে সান্ত্বনা দিই নিজেকে,
জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো।
বলেন আপনারা আমার কর্ম কি খারাপ?
খারাপ হলে কি নিজেকে শেষ করে
কখনো কি মনুষ্য জাতিকে জীবাণু ধুলা বালি থেকে রক্ষা করতাম?

আগে তেমন মুল্যায়ন পেতাম না
তবে করোনা ভাইরাস এসে আমাদের কদর বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে,
সেদিক থেকে আমি তার কাছে ঋনিই রয়ে গেলাম।

আমাকে যে টাকা দিয়ে কিনবে এবং ব্যাবহার করবে আমি তার সুরক্ষার জন্য জান কুরবান করে দিবো,
ধরে নিতে পারেন দাস যুগের গোলামের মতো
সারা জীবন বিলিয়ে দিব মালিকের খেদমতে তবুও বেইমানি করবোনা।

তবে বেইমানি করতে না চাইলে ও
মানুষের জন্য বাধ্য হই করতে।
যেমন কিছু অসাধু কারিগর যেমন
তেমন কাপড়ে তৈরি করছে আমাদের,
এখানে আমাদের কি করার আছে বলুন?
তারা নিজেদের জাতির ধ্বংসের জন্য তারাই তো দায়ি।
ঐ মানুষের জন্যই আজ আমাদের সুনাম কিছুটা নিন্মমুখি ও বটে।

আমাদের কাছে আবার কোন ভেদাভেদ নেই বুঝলেন?
যার নাকের ডগায় যাই চৌকষ
প্রহরীর মতো প্রতিরক্ষা দিই সারাক্ষণ,হোক সে ভিন্ন ধর্মের বা পেশার,বড়লোক কি গরীব।

তবে আমাদের ও তো একটা জীবন আছে নাকি?
একটানা কাজ না দিয়ে মাঝে মাঝে
তো ওয়াশে দিয়ে ফুরসত দিতে ও পারেন।
তাহলেই তো নব উদ্দামে কাজটা করতে পারি।

আসলে পৃথিবীতে কোন কিছুই
তুচ্ছ নয়।
জানেন কি আমাকে আধুনিকায়নের
জন্য কতো ভাবুকরা লেগে আছে আমার পিছে?
কতো মনুষ্য জাতির কর্মসংস্হান
আমাদের তৈরী থেকে?

করোনা তোকে ধন্যবাদ
তোর আগমনে আমি আজ ধন্য,
তুই না আসলে হয়তো পৃথিবীতে আমার পরিচিতি এতো সহজে হতো না।
তবে ভাবিসনা তোদের মতো ভাইরাস দের আমরা নিমন্ত্রণ করবো?
কারন এই মনুষ্য জাতি আমাদের জন্মদাতা
আর আমরা চাইবোনা তোদের মতো ভাইরাসের সম্মুখীন এরা হোক
তবুও তারা আমাদের ব্যবহার করুক আর না করুক।
তবে আমার জন্মদাতা মনুষ্য জাতির প্রতি আমাদের কিছু কথা আছে আর
তাহলো শুধু করোনা নয় এমন লক্ষ কোটি ভাইরাস প্রতিনিয়ত বাতাসে ঘুরে বেড়ায়।
কোন না কোন মানুষ সেটা বহন করে, আর ধুলাবালির কথা তো বাদই দিলাম।
তাই আসুন আমাদের ব্যবহার করুন
সুস্হ থাকুন।

 

Read more

1+
/

স্মৃতি কাতরতা

1+

স্মৃতি কাতরতা
জুনায়েদ খান প্রান্ত
============
আজও মনে পরে সেদিনের কথা,
মমতাময়ী কন্ঠে যখন ডাকতো দাদু আমাকে।
আমিও যেতাম ছুটে এক দৌড়ে তার কাছে।
যখনি যেতাম তার কাছাকাছি,
স্নেহ বন্ধনে জড়িয়া ধরতেন আমার গাঁ খানি।
কারণে অকারণে মা যখন বকতো আমাকে,
দাদুর কোলে গিয়ে মুখ লোকাতাম,
ধূসররঙের কাপড়ের নিচে।
তিনি যখন খেতে বসতেন থালা নিয়ে,
আদুরী বিড়ালছানা বসতো তার পাশ ঘিরে।
মেও মেও শব্দে মুখরিত করতো,
পুরোটা ঘরের আনাচে কানাচে।
দাদুও তাকে খাওয়াতেন মন-প্রাণ উজাড় করে।
যখনি আসতো শীতের হিমেল হাওয়া।
তার সাথে আকড়ে রাখতেন বিড়ালটিকে,
শিমুল তুলার তৈরি লেপের আবরণ দিয়ে।
যখন যেতাম দাদুর কাছাকাছি,
বিড়ালটি ও আমার কাছে আসতো অনায়াসে।
যখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে,
আমার মনের মাঝখানে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে।
আমিও বসে থাকি মন খারাপ করে।
এভাবেই যখন কাটছিলো সাতদিন,
হঠাৎই শুনলাম সকালবেলা ,
দাদু আর নেই এ দুনিয়াতে।
কান্নায় ভারি হয়ে উঠলো পরিবেশ।
আমিও পাশে আনমনে দাঁড়িয়ে,
চোখ থেকে পানি পড়ছিল গড়িয়ে নিজের অজান্তে।
কিছুক্ষন পরে জড়হলো সবলোকজন আমাদের বাড়িতে।
ঘর থেকে বের করে রাখে নিথর দেহটা আমগাছটার নিছে।
কেউবা ছুটাছুটি করে, বড়োই পাতার গরম জল করবে বলে।
চালতা গাছের নিছে আয়োজন করে,
দাদুকে শেষ স্নান করাবে বলে।
স্নান করানো শেষ হলে,
মসজিদ থেকে আনা খাটিয়াতে রাখে সযতনে,
তাকে সাজাতে থাকে সাদা কাপড় আর সুরমা দিয়ে।
আমিও চেয়ে দেখি শেষবারের মতো অপলক দৃষ্টিতে।
যখন নিয়ে যাবে তাকে আপন বাড়িছাড়ি,
শেষবারের মতন মাতুন ওঠে পুরোটা বাড়ি জুড়ে।
জানাজা শেষে তাকে রেখে আসি না ফেরার দেশে,
কবরে শুয়েদেয় পরম আবেশে।
দাদুর সাথে অদৃশ্য হয়ে যায় বিড়ালটিও,
আমি তাকে খুঁজি সারাটাক্ষন জুড়ে।
খু্ঁজে নাহি পাই,উতলা হয়ে ওঠে মনখানি।
হঠাৎ একদিন দেখি,
দাদু যেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিল।
বিড়ালটার নিথর দেহখানা সেখানে পড়ে আছে।
আমি ভাবতে থাকি, এ বুঝি মায়ার টান।
এ বুঝি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি প্রাণীর।
এ ভালোবাসা মানুষের প্রতি মানুষের কখনো দেখা যায় না।
ভাইয়া নিয়ে মাটি চাপা দেয় বিড়ালটি।
তারপর কেটে যায় কত বছর।
যখনি আসি বাড়িতে,
দাদুকে খোঁজেফিরি কল্পলোকে।
তার আছে যতসব স্মৃতি রেখা,
মনের মাঝে আড়াল করে রাখি সযত্নে।

1+
/

আষাঢ়ের দিনে

0

আষাঢ়ের দিনে
জুনায়েদ খান প্রান্ত
————————–
আষাঢ় গগণে বাড়ছে মেঘেদের আনাগোনা,
আকাশ ছেয়ে আছে ঘন অন্ধকারে অবেলাতে।
অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি বাতাস বেয়ে পুলকে দুলিয়া,
হৃদয় আমায় বেজে ওঠে পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করিয়া।

বিস্তৃত মাঠঘাট জুড়িয়া বিদুৎ চমকায় আগুনে ঝলসিয়া,
নব তৃনদলে বাদলের সুর ভাসে মুক্ত পরিবেশে।
আবার এসেছে সবুজের আগমন বৃষ্টি ফোঁটার সাথে,
নতুন করে অরণ্য সাঁজে, এই কথা বলে মোর প্রাণ।

কৃষকের কন্ঠে প্রতিধ্বনিতে জেগেছে দেখ,
সংস্কৃতির আর পল্লীগীতির নিদর্শনের গান।
মাঠে গিয়েছে রাখাল কৃষক ফিরেছে কী তারা?
নাকি ঝরে আটকা পড়েছে মাঝপথে রহিয়াছে থমকিয়া।

গগণ জুড়িয়া শব্দের তীব্রতা বাড়ে পলকে,
হৃদয়ে মোর কম্পন লাগে ওঠি শিহরিয়া।
এই ভয়ে কোনঠাসা হয়ে লোকজন বসে আছে,
আজি নাহি আর বাহির হয় ঘর থেকে।

আষাঢ়ের দিনে নদীর দুকূল ভাসে জোয়ারের টানে,
মাঝির বুক কাঁপিয়া ওঠে থরথরিয়া ঢেউয়ের তালে।
ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল কাদামাখা,
না জানি পড়ি পা পিছলিয়া ভাঙ্গি হাঁড় তীরে গিয়া।

বেলা হতে শেষ নাহি আছে প্রহর আর বেশিরে,
তোরা আছিস কারা বাহিরে আয় ফিরে আয় ঘরেতে।
একটু পড়ে নামবে বুঝি ঝড় প্রকট আকারে দুমড়িয়ে,
উড়বে গাছপালা বৃষ্টির সাথে আষাঢ়ের হাওয়াতে।

0
/

অপেক্ষায় রইলাম

0

অপেক্ষায় রইলাম
জুনায়েদ খান প্রান্ত
================
আমার সমস্থ ভাবনা গুলোকে একত্রে করে,
শহরের রাস্তাগুলোতে হাঁটতে গিয়ে উপলব্ধি বাড়ে।
আত্মাকে স্পর্শ করে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে,
নিমজ্জিত হয়ে বোধশক্তি গভীর প্রাণে।

চিরচেনা গলির মোড়ে কিংবা হাটবাজারে,
লোকজনদের আনাগোনা বড্ড কম চোখে পড়ে।
আমার সমস্ত বোধ নতুন করে আবিষ্কার করি,
স্মৃতিবিজড়িত পুরাতন দিনগুলো ভেবে।

চেনা শব্দটি ক্রমাগত উচ্চারিত হয় আজ,
মনে মনে জানিনা কেনই বা মোহের মত করে,
শব্দটি বারবার ফিরে আসে অজানা মন্ত্রের মাঝে।
বুকের ভিতর আঁকড়ে ছিল যন্ত্রণাক্ত মন্ত্রটি যে।

মুগ্ধমূর্খচোখে ব্যর্থ ব্যক্তিদের মতো করে,
তাকিয়ে দেখি হঠাৎ ঝড়ে ধ্বংসাত্মক শহরটির দিকে।
যেন শূণ্যতায় বিরাজ করে আজ প্রতিটি প্রাণে,
জানা ভয়ে কোনঠাসা হয়ে আছে সবাই বাসাবাড়িতে।

অপেক্ষায় রইলাম জীবিত মৃতের এই খেলাকে নিয়ে,
ঝাপিয়ে আসবে একদিন ঠিকই জয়ধ্বনি সবার মাঝে।
আসবে আবার ফিরে রৌদ্রজ্জল দিন হাসিমুখে,
সবাই একসাথে এগিয়ে নিতে নড়বড়ে দেশটাকে।

0
/
error: Content is protected !!